‘ভাবিনি এমন দিন দেখতে হবে!’ আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া চাবুক মমতাকে, তোলপাড় দিল্লি!

বঙ্গের হাইভোল্টেজ নির্বাচনী লড়াইয়ের ঠিক মুখেই বড়সড় ধাক্কা খেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইপ্যাক (I-PAC) দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযানের সময় খোদ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়ল রাজ্য সরকার। শীর্ষ আদালতের সাফ মন্তব্য— “এটি গণতন্ত্রের লজ্জা!”

কী ঘটেছিল আসলে? বিতর্কের সূত্রপাত একটি ইডি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় এক প্রকার বাধা সৃষ্টি করেন। বিষয়টি আইনি মোড় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে আজ বিচারপতিদের কড়া পর্যবেক্ষণে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়ে রাজ্য।

আদালতের বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণ: এদিন মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এটি সাধারণ কোনও কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত নয়। আদালত কড়া ভাষায় বলে:

“আমরা কখনও ভাবিনি এমন দিন আসবে, যখন একজন সাংবিধানিক পদে থাকা মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি তদন্ত প্রক্রিয়ায় ঢুকে পড়বেন। এই ধরনের পদক্ষেপ গোটা গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।”

তপ্ত রাজনৈতিক ময়দান: শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্যের পর বিরোধীরা কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। বিজেপি ও অন্য বিরোধী দলগুলির দাবি, এটি ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহার। তাঁদের মতে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন, অথচ মুখ্যমন্ত্রী পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে তদন্তে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কোনও তদন্তে বাধা দিতে যাননি; বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। বিরোধীরা তিলকে তাল করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে বলেও অভিযোগ জোড়া-ফুল শিবিরের।

আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের মত: এই মামলায় আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ মেনকা গুরুস্বামীর ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর মতো একজন জনপ্রতিনিধির তদন্তকারী সংস্থার কাজে উপস্থিতি একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করল। প্রশাসনিক ক্ষমতা বনাম তদন্তকারী সংস্থার স্বাধীনতার সীমারেখা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠে গেল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।

ভোটের ঠিক আগ মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের এই ‘অস্বস্তিকর’ মন্তব্য যে ব্যালট বক্সে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে নিশ্চিত রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এখন দেখার, আইনি এই ধাক্কা সামলাতে তৃণমূল কী কৌশল নেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy