মাশরুমকে অনেকে কেবল শৌখিন খাবার বা ছত্রাক মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু আপনি কি জানেন, ছোট এক বাটি মাশরুম আপনার আয়ু বাড়িয়ে দিতে পারে অনেকটা? আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, চর্বি বা ক্যালোরি ছাড়াই মাশরুম শরীরকে এমন কিছু পুষ্টি দেয়, যা অন্য কোনো সবজিতে মেলা ভার।
জেনে নিন কেন মাশরুমকে বলা হয় বর্তমান যুগের ‘সুপারফুড’:
১. ক্যানসার রুখতে অব্যর্থ: ১৯৬৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত করা ১৭টি গবেষণার রিপোর্ট বলছে, প্রতিদিন মাত্র ১৮ গ্রাম (প্রায় ২টি মাঝারি সাইজ) মাশরুম খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি ৪৫% পর্যন্ত কমে যায়! এতে থাকা ‘আরগোথিওনিন’ নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষতি রুখে দিয়ে শরীরকে লোহার মতো শক্ত রাখে।
২. লবণের আসক্তি ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: যাঁরা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাঁদের জন্য মাশরুম আশীর্বাদ। এতে সোডিয়ামের পরিমাণ অত্যন্ত কম (১ কাপে মাত্র ৫ মিলিগ্রাম)। লবণের বদলে মাশরুমের নিজস্ব ‘উমামি’ স্বাদ আপনার খাবারের তৃপ্তি বাড়াবে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
৩. কোলেস্টেরল ও হার্টের সুরক্ষা: রেড মিট বা খাসির মাংসের সেরা বিকল্প হলো মাশরুম। বিশেষ করে শিটাকে (Shiitake) মাশরুম রক্তে কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয় এবং হার্টকে রাখে সতেজ।
৪. মস্তিষ্ক হবে ধারালো: সিঙ্গাপুরের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে অন্তত ২ কাপ মাশরুম খেলে বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রম বা আলঝেইমারের ঝুঁকি ৫০% কমে যায়। এটি আপনার মস্তিষ্কের কোষকে সজীব রাখতে সাহায্য করে।
৫. হাড়ের শক্তি ও ভিটামিন ‘ডি’: সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসা মাশরুম হলো ভিটামিন ডি-এর প্রাকৃতিক উৎস। এটি হাড় মজবুত করতে এবং শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।
৬. পেটের সমস্যার সমাধান: মাশরুমে থাকা বিশেষ কার্বোহাইড্রেট আপনার অন্ত্রের (Gut) ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটি প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে হজম ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: মাশরুমে আছে সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন বি-৬। এটি শরীরের ডিএনএ গঠন এবং কোষের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, ফলে আপনি বারবার অসুস্থ হওয়া থেকে রেহাই পান।
কীভাবে খাবেন? আপনার পছন্দমতো বাটন, অয়েস্টার বা শিটাকে মাশরুম অল্প তেলে ভাজা করে বা স্যুপে দিয়ে খেতে পারেন। মনে রাখবেন, সঠিক পুষ্টির জন্য মাশরুম খুব বেশি মশলা দিয়ে না রান্না করাই ভালো।