“ভাতার লাইনে দাঁড় করানোই কি উন্নয়ন?” ‘যুবসাথী’ নিয়ে মমতাকে আক্রমণ দিলীপের

পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য রাজ্য সরকারের চালু করা ‘যুবসাথী’ প্রকল্প নিয়ে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, এই প্রকল্প আসলে বেকারত্বের এক করুণ প্রতিফলন।

“চাকরি নেই বলেই ভাতার লম্বা লাইন”

যুবসাথী প্রকল্পের ক্যাম্পে এমবিএ, এমকম পাশ করা তরুণ-তরুণীদের ভিড় নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন,

“যুবসাথীতে ভাতার নামে যুবকদের আজ রাস্তায় দাঁড় করানো হচ্ছে। রাজ্যে কাজ নেই, চাকরি নেই—তাই আজ কোটি কোটি যুবক এই লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে। লোকেদের কাজ দেওয়ার বদলে ভাতার লাইনে দাঁড় করানোই কি এই সরকারের কৃতিত্ব?”

বিজেপি নেতার মতে, শিল্প ও কর্মসংস্থানের অভাব ঢাকতেই রাজ্য সরকার এই ধরনের মাসিক ভাতার রাজনীতি করছে, যা আদতে যুবকদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

৭ নির্বাচনী আধিকারিক নিয়ে ‘পর্দাফাঁস’-এর হুঁশিয়ারি

এদিন শুধুমাত্র যুবসাথী নয়, ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং কাজে গাফিলতির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের তরফে পশ্চিমবঙ্গের ৭ জন নির্বাচনী আধিকারিক (AERO)-কে সাসপেন্ড করার নির্দেশ নিয়েও মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। এই প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি বিঁধলেন সরকারি কর্মচারীদের একাংশকে।

তিনি বলেন, “তদন্তে উঠে এসেছে কিছু অফিসার জেনেবুঝে এই বিষয়টিতে জটিলতা সৃষ্টি করছে। এমন বহু কর্মচারী রয়েছেন, যারা এ বিষয়ে অসহযোগিতা করে পুরো ব্যাপারটায় দেরি করছেন। এদের সকলের পর্দাফাঁস হওয়া উচিত এবং সবাইকে কড়া সাজা দেওয়া উচিত।” দিলীপের ইঙ্গিত স্পষ্ট—নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে কমিশন যে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে, তাকে তিনি পূর্ণ সমর্থন করছেন এবং দোষী অফিসারদের রেয়াত না করার দাবি তুলছেন।

রাজ্য রাজনীতির দুই জ্বলন্ত ইস্যু—বেকারত্ব ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা—নিয়ে দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণ স্বভাবতই শাসক শিবিরের ওপর চাপ বাড়াবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy