এ দেশে বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটের সম্পর্ক মানেই যেন অম্ল-মধুর লড়াই। কখনও অভিযোগ অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির, তো কখনও আবার সম্পত্তি জবরদখলের আশঙ্কা। এই দীর্ঘকালীন আইনি জট কাটাতে এবং উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় মোদী সরকার নিয়ে এসেছে ‘মডেল টেন্যান্সি অ্যাক্ট ২০২১’। এবার থেকে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আর শুধু মুখের কথায় কাজ হবে না, মানতে হবে একগুচ্ছ কড়া নিয়ম।
ভাড়া ব্যবস্থায় কী কী বদল আসছে? এখন থেকে আর ১১ মাসের মৌখিক বা দায়সারা চুক্তিতে কাজ চলবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও ভাড়ার চুক্তি লিখিত হওয়া এবং তা রেন্ট অথরিটিতে (Rent Authority) রেজিস্টার করা বাধ্যতামূলক। এতে ভাড়ার পরিমাণ থেকে শুরু করে সময়সীমা—সবটাই থাকবে আইনি রেকর্ডে।
সিকিউরিটি ডিপোজিট নিয়ে বড় খবর: আগে বাড়িওয়ালারা নিজেদের ইচ্ছেমতো মোটা অঙ্কের সিকিউরিটি ডিপোজিট চাইতেন। কিন্তু নতুন কাঠামোয়:
-
আবাসিক ক্ষেত্রে: সর্বোচ্চ ২ মাসের বেশি অগ্রিম বা সিকিউরিটি ডিপোজিট নেওয়া যাবে না।
-
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে: সর্বোচ্চ ৬ মাসের ভাড়া নেওয়া যাবে।
কার পাল্লা কতখানি ভারী? নতুন এই আইনে দুই পক্ষই পাচ্ছেন বিশেষ কিছু আইনি কবজ:
ভাড়াটেদের জন্য সুখবর:
-
চুক্তি ছাড়া হুটহাট ভাড়া বাড়ানো যাবে না।
-
সঠিক আইনি কারণ ছাড়া বাড়িওয়ালা চাইলেই আপনাকে উচ্ছেদ করতে পারবেন না।
-
কোনও বিবাদ হলে সরাসরি বিশেষ ‘রেন্ট অথরিটি’-র দ্বারস্থ হওয়া যাবে।
বাড়িওয়ালাদের সুরক্ষা:
-
ভাড়াটে সময়মতো টাকা না দিলে বা চুক্তি ভাঙলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
-
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও যদি ভাড়াটে বাড়ি না ছাড়েন, তবে মালিক মাসিক ভাড়ার ৪ গুণ পর্যন্ত জরিমানা দাবি করতে পারবেন।
-
অনুমতি ছাড়া সাবলেট (অন্য কাউকে ভাড়া দেওয়া) বা সম্পত্তির ক্ষতি করলে উচ্ছেদ করা সহজ হবে।
বাড়ি সংস্কার ও মেরামতি: দেওয়াল রঙ করা থেকে শুরু করে বড়সড় মেরামতি—কার কতখানি দায়িত্ব, তা চুক্তিতেই স্পষ্ট উল্লেখ করতে হবে। এমনকি বড়সড় পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন হলেও মালিক আইনি পথে ঘর খালি করার আবেদন করতে পারবেন।
ভারতে ভাড়া দেওয়ার সংস্কৃতিতে এই নতুন আইন এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বিশ্বাস বা মৌখিক সম্পর্কের চেয়ে এখন লিখিত চুক্তি এবং আইনি সুরক্ষাই হবে আসল হাতিয়ার। তবে এই আইন সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা স্বস্তি আনে, তা নির্ভর করবে এর সঠিক প্রয়োগের ওপর।