ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডে দীর্ঘ টালবাহানা ও তদন্তের পর অবশেষে বড় সাফল্য পেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। কামালগাছি এলাকা থেকে এনআইএ-র গোয়েন্দারা গ্রেফতার করলেন ভাঙড়ের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে। এই গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরেই এনআইএ-র নজর ছিল এই তৃণমূল নেতার ওপর, অবশেষে তাঁর হদিশ মেলায় তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভাঙড়ে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতা ও তার পরবর্তী উত্তেজনার জেরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ তদন্তভার নিজের হাতে তুলে নেয়। তদন্ত চলাকালীন একাধিকবার শওকত মোল্লার নাম উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করার পরও তাঁর ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। তবে এবার সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে সরাসরি গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সূত্রের খবর, শনিবার সকালে কামালগাছি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এনআইএ-র একটি বিশেষ দল শওকত মোল্লাকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই ঘটনার পর এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। ভাঙড় ও তার আশেপাশের এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য সদা তৎপর প্রশাসন।
শওকত মোল্লার গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধী দলের চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, এই গ্রেফতারিই প্রমাণ করে যে রাজ্যের শাসক দলের নেতারা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি, তবে দলের অন্দরে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
ভবিষ্যতে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, শওকত মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আর কোনো বড় মাছের নাম বেরিয়ে আসে কি না—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। এনআইএ-র এই অভিযান রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁকে আদালতে তোলা হবে এবং এনআইএ-র পক্ষ থেকে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে এই গ্রেফতারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





