বীরভূম তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, যিনি ২০২২ সাল থেকে নানা আইনি জটিলতা এবং রাজনৈতিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, এবার নিজের ভাগ্য ফেরাতে নৈহাটির জাগ্রত ‘বড় মা’-এর শরণাপন্ন হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি নৈহাটির বড় মা মন্দিরে পুজো দিয়েছেন এবং সন্ধ্যারতিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এই পুজো ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের প্রস্তুতি বৈঠকের ঠিক আগেই হলো, যেখানে অনুব্রত মণ্ডলেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিকূল সময়ে আধ্যাত্মিক আশ্রয়: কুকথাকাণ্ড থেকে পদচ্যুতি
২০২২ সাল থেকে অনুব্রত মণ্ডলের সময়টা যেন কিছুতেই ভালো যাচ্ছে না। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এবং দলে নিজের হারানো পদ ফিরে পাওয়ার আশায় থাকলেও, শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে তাঁকে বীরভূম জেলার সভাপতির পদ হারাতে হয়েছে। এর মধ্যেই ‘কুকথাকাণ্ড’ তার বিপদ আরও বাড়িয়েছে। বোলপুর থানার আইসি-কে ফোন করে তাঁর মা ও স্ত্রীকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করার ঘটনায় তিনি দলে এবং দলের বাইরে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে ফাঁড়া কাটাতে অনুব্রত মণ্ডল এবার আধ্যাত্মিক পথের আশ্রয় নিয়েছেন। শুক্রবার বোলপুর থেকে কলকাতায় আসার পথে তিনি নৈহাটিতে পৌঁছান।
জাগ্রত ‘বড় মা’-এর প্রতি বিশ্বাস: উপহার পেলেন শাড়ি ও ছবি
বড় মায়ের মন্দিরে পুজো দেওয়ার বিষয়ে মন্দির কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানান, অনুব্রত মণ্ডল বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের কাছ থেকে জেনেছেন যে ‘বড় মা’ অত্যন্ত জাগ্রত। সেই বিশ্বাসেই তিনি মন্দিরে পুজো দিতে এসেছেন। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে অনুব্রত মণ্ডলকে মায়ের পরনের একটি শাড়ি এবং মায়ের একটি ছবি উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে।
তবে, পুজো দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে অনুব্রত মণ্ডল কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
২১ জুলাইয়ের বৈঠকের আগে: নতুন রাজনৈতিক শক্তি অর্জনের চেষ্টা?
শনিবার কলকাতায় তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের একটি প্রস্তুতি বৈঠক রয়েছে। বীরভূম কোর কমিটির সদস্য হিসেবে অনুব্রত মণ্ডল সেই বৈঠকে ডাক পেয়েছেন। এই বৈঠকের আগে তাঁর ‘বড় মা’-এর মন্দিরে পুজো দেওয়াকে অনেকেই তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে নতুন করে ইতিবাচক শক্তি অর্জনের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। এই পুজো কি অনুব্রত মণ্ডলের ভাগ্যে নতুন কোনো দিশা আনবে, নাকি কেবলই এক তাৎক্ষণিক আধ্যাত্মিক আশ্রয় হয়ে থাকবে? ২১ জুলাইয়ের সমাবেশই হয়তো তার ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেবে।