ভবানীপুর না নন্দীগ্রাম? কোন আসন ছাড়ছেন ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু? বড় আপডেট দিলেন খোদ বিধায়ক!

২০১১ সালের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৬-এর মেগা জয়ে তাঁর ভূমিকা প্রশ্নাতীত। তৃণমূলের সাজানো সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে দিয়ে এবার ‘আসল পরিবর্তন’ নিয়ে আসার দাবি করলেন ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নিজের খাসতালুক নন্দীগ্রামে পা রেখেই জনজোয়ারে ভাসলেন তিনি। আর সেখান থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং নিজের বিধায়ক পদ নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন বিজেপি নেতা।

এদিন নন্দীগ্রামে শয়ে শয়ে মানুষের উচ্ছ্বাসের মাঝে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি ২০১১-র পরিবর্তনে ছিলাম। আর এবার আসল পরিবর্তনে থাকলাম।” কর্মীদের প্রতি তাঁর স্পষ্ট বার্তা, জয় এলেও সংযত থাকতে হবে। তিনি সাফল্যের দুটি মূল মন্ত্র হিসেবে ‘ধৈর্য’ ও ‘সহ্য’ করার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে এক বিশাল ভবিষ্যদ্বাণী করে তিনি বলেন, “সরকার এবং দল এত ভালো কাজ করবে যে আগামী ১০০ বছর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি রাজত্ব করবে।”

তবে এই উৎসবের আবহেই প্রশ্ন উঠছে তাঁর বিধায়ক পদ নিয়ে। ২০২৬-এর নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী দুটি কঠিন আসন থেকে লড়াই করেছিলেন— একটি তাঁর পুরনো দুর্গ নন্দীগ্রাম এবং অন্যটি রাজ্যের সবথেকে হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুর। নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে ৯,৬৬৫ ভোটে পরাজিত করার পাশাপাশি ভবানীপুরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫,১০৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ‘জায়ান্ট কিলার’ তকমা ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি।

এখন প্রশ্ন হলো, শুভেন্দু কোন আসনটি নিজের কাছে রাখবেন? জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১-এর ধারা ৩৩(৭) অনুযায়ী, একজন প্রার্থী দুটি আসনে লড়তে পারলেও, ফল প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (সাধারণত ১৪ দিন) তাঁকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হয়। ওই আসনে পরে উপনির্বাচন হয়। এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুভেন্দু জানান, “নিয়ম অনুযায়ী আমাকে একটি আসন ছাড়তে হবে। দলের হাইকমান্ড আমাকে যা বলবে, আমি সেই সিদ্ধান্তই মেনে নেব। আমি দলের একজন শৃঙ্খলাপরায়ণ কর্মী।” তবে তিনি বারবার আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, নন্দীগ্রামের মানুষের সেবা তিনি আজীবন করে যাবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর এই ‘আসল পরিবর্তন’-এর ডাক বাংলার রাজনীতিতে নতুন এক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy