২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক আগে ফের উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ইভিএম স্ট্রংরুম পরিদর্শনে গিয়ে মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সাফ জানান, কেউ যদি ভোট লুঠের চেষ্টা করে, তবে তার ফল হবে ভয়াবহ।
ভোট মিটতেই স্ট্রংরুমে গোলযোগের খবর পেয়ে গতকাল রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান তৃণমূল নেত্রী। প্রায় চার ঘণ্টা তিনি সেখানে অবস্থান করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে রীতিমতো আক্রমণাত্মক মেজাজে মমতা বলেন, “১ সেকেন্ডে ১০ হাজার লোক এলাকা থেকেই জড়ো করে দিতে পারি। বাইরে থেকে লোক আনার দরকার নেই, এটাই আমার এলাকা।” তাঁর এই ‘হুঙ্কার’ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা এবং সিল করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিল করেছে বলছে, কিন্তু ও তো ব্যান্ডেজ করে রেখে দিয়েছে।” ইভিএম বদল বা কারচুপির হাত থেকে জনগণের রায়কে রক্ষা করতে প্রয়োজনে জীবন-মরণ লড়াইয়ের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গণনার আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি সংঘাতের ডাক এবং ‘দশ হাজার লোক’ ডাকার হুঁশিয়ারি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, আগামী ৪ মে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতে চলেছে। তার আগে স্ট্রংরুমকে ঘিরে এই টানটান উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





