ব্যাগভর্তি টাকা আর গর্ভনিরোধক! সুরেন্দ্রনাথ কলেজ কাণ্ডে নড়েচড়ে বসল উচ্চশিক্ষা দফতর

১৪০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজের অন্দরে যে এমন ভয়ংকর ও লজ্জাজনক ঘটনা ঘটতে পারে, তা কল্পনা করাও দুষ্কর। ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ, সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়—যে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনীদের তালিকায় জ্বলজ্বল করছেন বিখ্যাত সব মানুষ, সেই কলেজের টেরেস ফেসিলিটির নামে তৈরি এসি রুমে বর্তমানে যা উদ্ধার হয়েছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। ঘটনার জল বহুদূর গড়িয়েছে এবং পুলিশি পদক্ষেপের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা দফতরও নড়েচড়ে বসেছে।

পুলিশি অভিযানে এই কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ভেন্ডর পরিতোষ দত্তকে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা। দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য এবং তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ, কলেজের পাঁচতলায় ‘টেরেস ফেসিলিটি’র নামে তিনি রীতিমতো একটি ব্যক্তিগত ‘মাসাজ পার্লার’ খুলে বসেছিলেন। কলেজের ইউনিয়ন রুমে ব্যাগভর্তি টাকার বান্ডিল পাওয়ার পর এই নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

কলেজের ওই পাঁচতলার এসি রুমটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিছানা, আরামদায়ক গদি, বালিশের পাশাপাশি প্রচুর গর্ভনিরোধক, আপত্তিকর তরল ভর্তি বোতল উদ্ধার হয়েছে। অভিযোগ, দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় কলেজের অশিক্ষক কর্মীদের দিয়ে সেখানে মাসাজ করাতেন। ইউনিয়ন রুমের দেওয়ালে দেবাশিসের পাশাপাশি সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ছেলে শিবাশিসের ছবিও শোভা পায়। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার বদলে কীভাবে এমন অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া গড়ে উঠল? অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা কেন বিষয়টি আগে থেকে টের পেলেন না, তা নিয়েও উঠছে বড় প্রশ্ন।

উচ্চশিক্ষা দফতর এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। স্টুডেন্ট ইউনিয়নের মাধ্যমে তোলা টাকা কোন খাতে খরচ হয়েছে, পাঁচতলায় ওই রুম তৈরির প্রশাসনিক অনুমতি ছিল কি না, এবং কারা তা ব্যবহার করত—সেই সবেরই জবাব চাওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উচ্চশিক্ষা দফতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। বহিরাগতদের কলেজে প্রবেশের বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে দফতর। প্রয়োজনে প্রাক্তন অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৪০ বছরের ইতিহাসে এমন কলঙ্কজনক ঘটনায় স্তব্ধ শিক্ষামহল। কলেজ কর্তৃপক্ষ অবশ্য পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর উচ্চশিক্ষা দফতর চূড়ান্ত কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এখন রাজ্যের নজর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy