তপ্ত বৈশাখে স্বস্তির বৃষ্টি নয়, একেবারে রেকর্ড ভাঙা তাণ্ডব দেখল তিলোত্তমা। বুধবার সন্ধে থেকে রাতভর বৃষ্টিতে কার্যত ভিজল কলকাতা। আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার রাত পর্যন্ত কলকাতায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যার জেরে রাতের তাপমাত্রা একধাক্কায় স্বাভাবিকের থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস নেমে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, স্বস্তির এই আবহাওয়া এখনই ফুরিয়ে যাচ্ছে না। বরং আগামী ৪ দিন অর্থাৎ ৩ মে রবিবার পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় বঙ্গেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া এবং বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ হতে পারে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার।
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দুই বর্ধমানে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ঝড়-বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে। বিশেষত শুক্রবার ও শনিবার ঝড়ের গতিবেগ কোথাও কোথাও ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই সময়ে বজ্রপাতের প্রবণতা প্রবল থাকবে, তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। আজ বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত অর্থাৎ ‘অতি ভারী’ বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহারে ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রবিবারের পর আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।





