ফের রণক্ষেত্র বেহালা। সখেরবাজার এলাকায় বিজেপির বিএলএ-২ (BLA 2) অরুণ মজুমদারকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। খবর পাওয়া মাত্রই আক্রান্ত কর্মীকে দেখতে ছুটে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় কর্মীর এই রক্তাক্ত অবস্থা দেখে মেজাজ হারান তিনি এবং তৃণমূল সরকারকে লক্ষ্য করে কড়া ভাষায় বড় পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালে বেহালার সখেরবাজারে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত ছিলেন অরুণ মজুমদার। অভিযোগ, সেই সময় একদল দুষ্কৃতী তাঁর ওপর চড়াও হয়। বিজেপির দাবি, হামলাকারীরা তৃণমূলের আশ্রিত গুন্ডা। অরুণবাবুকে লাথি, ঘুসি মারা হয় এবং তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দুর কড়া হুঁশিয়ারি: আক্রান্ত কর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তৃণমূল ভয় পেয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বিজেপি কর্মীরা যাতে বুথে না থাকতে পারে, তার জন্যই এই আক্রমণ। পুলিশের সামনেই এই গুন্ডামি চলছে। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব।” শুভেন্দু আরও জানান যে, এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে তিনি বড় কোনো আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে চলেছেন। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
উত্তপ্ত বেহালা: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেহালা সখেরবাজার এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এটি বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। তবে শুভেন্দু অধিকারীর এই ঝটিকা সফর এবং পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি কলকাতা সংলগ্ন এলাকার রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে যে দু-পক্ষের লড়াই আরও তুঙ্গে উঠবে, তা আজকের এই ঘটনাতেই স্পষ্ট।