২০২৬-এর মহারণে কলকাতার রাজনৈতিক মানচিত্র কার্যত ওলটপালট করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের বিধায়ক ও হেভিওয়েট নেতাদের সরিয়ে শহরের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে কৌশলগত পরিবর্তন আনল তৃণমূল কংগ্রেস। যার মধ্যে ৫টি আসনেই আনা হয়েছে একদম নতুন মুখ। পুরনো চাল ভাতে বাড়লেও, এবার তিলোত্তমার মন জিততে ‘নতুন রক্ত’ আর ‘ক্লিন ইমেজ’-এই ভরসা রাখছে ঘাসফুল শিবির।
বেলেঘাটায় বড় চমক: এবার ময়দানে কুণাল ঘোষ
কলকাতার প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক বেলেঘাটা কেন্দ্র। দীর্ঘদিনের দাপুটে বিধায়ক পরেশ পালের পরিবর্তে এবার প্রার্থী করা হয়েছে সাংবাদিক-রাজনীতিক কুণাল ঘোষ-কে। দলীয় সংগঠনে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকলেও এই প্রথম বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে নামছেন তিনি।
“আমরা সকলেই দলের সাধারণ কর্মী। লক্ষ্য একটাই—বাংলাকে রক্ষা করা এবং বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেওয়া।” — মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া কুণালের।
তারুণ্য ও উত্তরাধিকারের মিশেল
শহরের আরও কয়েকটি আসনে নতুন প্রজন্মের ওপর বাজি ধরেছে তৃণমূল:
-
মানিকতলা: প্রয়াত মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের উত্তরসূরি হিসেবে প্রথমবার ভোটের লড়াইয়ে নামছেন তাঁর কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডে।
-
এন্টালি: বর্ষীয়ান বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার পরিবর্তে এবার টিকিট পেয়েছেন তাঁরই ছেলে তথা কাউন্সিলর সন্দীপন সাহা।
-
জোড়াসাঁকো: বিদায়ী বিধায়ক বিবেক গুপ্তাকে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে হিন্দিভাষী সংগঠনের পরিচিত মুখ তথা কাউন্সিলর বিজয় উপাধ্যায়-কে।
অভিজ্ঞদের আসন বদল ও নতুন সমীকরণ
শুধু নতুন মুখ নয়, অভিজ্ঞ নেতাদের ক্ষেত্রেও ‘চেস গেম’ খেলেছে নবান্ন।
-
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়: খড়দহ ছেড়ে এবার বালিগঞ্জ থেকে লড়াই করবেন এই বর্ষীয়ান নেতা।
-
বেহালা রদবদল: বেহালা পূর্বে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায় আনা হয়েছে প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী-কে। অন্যদিকে, রত্নাকে পাঠানো হয়েছে বেহালা পশ্চিমের লড়াই সামলাতে।
কেন এই পরিবর্তন?
রাজনৈতিক মহলের মতে, কলকাতার ভোটারদের অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি বা প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া রুখতেই এই ‘বিগ রিসেট’ বা বড় রদবদল। পুরনো মুখের বদলে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নতুন প্রার্থীদের সামনে এনে শহরবাসীর আস্থা ফেরাতে চাইছেন মমতা।