কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন ও তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে জাতীয় পরিষদের (JCM) খসড়া কমিটি। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই বেতন ও পেনশন সংশোধন সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রস্তাব বা ‘জয়েন্ট মেমোরেন্ডাম’ তৈরি করা হবে, যা সরাসরি জমা দেওয়া হবে কমিশনের কাছে।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় কী? ১৩ তারিখের এই মেগা মিটিংয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর সিলমোহর পড়তে পারে:
বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি: বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কর্মচারীদের নুন্যতম বেতন এবং পেনশনভোগীদের মাসিক আয় কতটা বাড়ানো প্রয়োজন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor): কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণকারী ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ এবার ৩.২৫ বা তার বেশি রাখা হোক। এটি অনুমোদিত হলে বেতন একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে।
ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা: আবাসন ভাড়া (HRA) থেকে শুরু করে অন্যান্য মহার্ঘ ভাতার কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা হবে।
কবে নাগাদ কার্যকর হতে পারে নতুন বেতন কাঠামো? ভারত সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই সংসদকে জানিয়েছে যে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। কমিশনকে তাদের সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম বেতন কমিশনের সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
আগের বৈঠকের ফলাফল গত ১২ মার্চ একটি প্রাথমিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন কর্মচারী ও পেনশনভোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে আসা পরামর্শগুলি খতিয়ে দেখা হয়। ১৩ এপ্রিলের বৈঠকে সেই সমস্ত দাবিগুলিকেই একটি চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তাবে রূপ দেওয়া হবে।
বর্তমানে প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং ৬৫ লক্ষের বেশি পেনশনভোগী এই সিদ্ধান্তের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন। এই বৈঠকের নির্যাস তাঁদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সচ্ছলতার পথ নির্ধারণ করবে।





