রাজ্যে পালাবদলের পরেই সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এল বছরের সবথেকে বড় সুখবর। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বেকার যুবক-যুবতীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এখন থেকে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় এক ধাক্কায় ৫ বছরের ছাড় দেওয়া হবে। সরকারের এই মানবিক সিদ্ধান্তকে দু’হাত তুলে স্বাগত জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক পদপ্রার্থীসহ রাজ্যের কয়েক লক্ষ চাকরিপ্রার্থী।
বয়সের কাঁটায় আর আটকে থাকবে না স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকায় বহু যোগ্য প্রার্থীর সরকারি চাকরির আবেদনের বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল। অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী স্রেফ বয়সের কারণে পরীক্ষায় বসার সুযোগ হারাচ্ছিলেন। এই বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সাধারণ বিভাগ (General Category) সহ সমস্ত সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য আবেদনের বয়সের সময়সীমা ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, যারা বয়সের কারণে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাঁরা আরও একবার লড়াই করার সুযোগ পাবেন।
হবু শিক্ষকদের মধ্যে খুশির জোয়ার এই ঘোষণার পরেই সবথেকে বেশি স্বস্তি পেয়েছেন শিক্ষক পদপ্রার্থীরা। বছরের পর বছর ধরে নিয়োগের আশায় রাস্তায় বসে থাকা হবু শিক্ষকরা সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের মতে, “নিয়োগের অভাবে আমাদের অনেকেরই বয়স শেষের দিকে ছিল। ৫ বছরের এই বিশেষ ছাড় আমাদের নতুন করে বাঁচার অক্সিজেন দিল।” শিক্ষক সংগঠনগুলিও সরকারের এই সংবেদনশীল সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
দ্রুত নিয়োগের ইঙ্গিত নবান্নের স্রেফ বয়স বাড়ানোই নয়, নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যে পড়ে থাকা কয়েক হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ শুরু করতে চাইছে নতুন সরকার। বিশেষ করে শিক্ষা ও পুলিশ দপ্তরে আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলি যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত শেষ করা যায়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
একদিকে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার মতো কড়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আর অন্যদিকে বেকারদের কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করতে বয়সের সময়সীমা বৃদ্ধি— মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ডাবল স্ট্রোকে’ আপ্লুত সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের শিক্ষিত বেকার সমাজের মধ্যে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে গেল। এখন দেখার, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কত দ্রুত রাজ্যের শূন্যপদগুলো পূরণ হয়।





