আধুনিকতার জোয়ারে যখন পুরনো অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে, তখন দমদমের এক টুকরো ইতিহাস আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশের বুলডোজার অভিযানের পরও ভাঙা পড়েনি এই ঐতিহাসিক চায়ের দোকানটি। কিন্তু দোকানের অস্তিত্ব টিকে থাকলেও, তার ভাড়ার অঙ্ক শুনলে সাধারণ মানুষের পিলে চমকে যাওয়ার জোগাড়। একসময়ের সাধারণ এই চায়ের দোকানটির বর্তমান ভাড়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা!
অবিশ্বাস্য ভাড়া বৃদ্ধির কাহিনী: এক সময় এই দোকানের মাসিক ভাড়া ছিল মাত্র ১৯০ টাকা। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভাড়া বাড়তে বাড়তে আজ ৯ লক্ষ ৩২ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এত আকাশছোঁয়া ভাড়া দিয়ে কীভাবে টিকে আছে একটি চায়ের দোকান, তা নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সাহাজান পুরকাইতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দোকানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভাড়ার এই রদবদল নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের।
ঐতিহ্য বনাম বাস্তবতা: বুলডোজার চালিয়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদের সময় দমদমের বহু পুরোনো কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও, আইনি জটিলতা বা ঐতিহ্যের খাতিরে এই দোকানটি শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছে। তবে ব্যবসায়িক লাভ আর ক্রমবর্ধমান ভাড়ার চাপে দোকানটি কতদিন তার আগের মেজাজ ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়ে সন্দিহান নিয়মিত খদ্দেররা।
কেন এই পরিস্থিতি? বিশেষজ্ঞদের মতে, এলাকাটির ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং রি-ডেভেলপমেন্টের কারণেই দোকানটির ভাড়া এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও সাধারণ মানুষের কাছে এই অঙ্ক রীতিমতো বিস্ময়কর। প্রতিদিন সকালে যেখানে আড্ডা জমত, সেই দোকানের দরজায় এখন ভাড়ার নোটিসটাই যেন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।





