রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের আবহেই এবার বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভার কড়া অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এর মধ্যেই ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবন নিয়ে কলকাতা পুরসভার নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই বসতবাড়ি সম্পূর্ণ বৈধভাবে নির্মিত। পুরসভার তরফে প্রেরিত ‘বেআইনি নির্মাণ’ সংক্রান্ত নোটিশটি নিয়মবহির্ভূত এবং ভিত্তিহীন, এই যুক্তিতেই হাইকোর্টের গ্রীষ্মকালীন অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়। পুরসভার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলির কিছু অংশ অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ করা হয়েছে, যা ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে এই নোটিশ পাওয়ার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, পুরসভা যে নোটিশ দিয়েছে, তাতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই যে বাড়ির কোন অংশটি বেআইনি বা তার ভিত্তি কী। গত শনিবার অভিষেক এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট করেন যে, পুরসভা তাদের কোনো বিস্তারিত তথ্য বা অ্যাটাচমেন্ট দেয়নি। তিনি লিখিতভাবে পুরসভাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন এবং সঠিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন।
শুধু ব্যক্তিগত আবাসই নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ঠিকানাতেও পুরসভা ৪০১ ধারায় নোটিশ পাঠায়। সেই নোটিশে মূলত অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণ সংক্রান্ত নথি এবং অতিরিক্ত নির্মাণের অনুমতির কাগজ চেয়ে পাঠানো হয়। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উদ্যোগী হয়েছে। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস কর্তৃপক্ষের তরফে যদিও জানানো হয়েছে, তারা সমস্ত তথ্য দিতে প্রস্তুত। তবে নথি সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন থাকায় তারা পুরসভার কাছে দশ দিনের সময় চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না পুরসভা নির্দিষ্ট করে জানাচ্ছে বাড়ির কোন অংশটি অবৈধ, ততক্ষণ পর্যন্ত এর কোনো সদুত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজনীতির অন্দরমহলে বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। একের পর এক বিধায়কের দলত্যাগের জল্পনা এবং স্বাক্ষর বিতর্ক নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে থাকা অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের পর রাজ্যজুড়ে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, তার প্রভাব সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর পড়ছে। এমন এক রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির নোটিশ ইস্যুটিকে ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ছে। এখন বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি কি পুরসভার পদক্ষেপের ওপর স্থগিতাদেশ আনে, নাকি আইনি লড়াই আরও জটিল মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।





