রাজ্যে ‘বেআইনি নির্মাণ’ বিরোধী লড়াই এখন তুঙ্গে। বিজেপি সরকারের ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতির আঁচ এসে পড়ল খোদ তৃণমূলের অন্দরেই। একদিকে যখন রেল স্টেশন থেকে বহুতল—রাজ্যজুড়ে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজ়ারের গর্জন শোনা যাচ্ছে, ঠিক তখনই পুরুলিয়ার লক্ষণপুর এলাকায় ঘটল এক অভাবনীয় ঘটনা। নিজেদেরই দলীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলতে বাধ্য হলো তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ, বনদফতরের জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছিল এই অফিস।
ঘটনার সূত্রপাত পুরুলিয়া-বাঁকুড়া জাতীয় সড়কের ধারে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২২ সালে তৃণমূলের দাপট চলাকালীন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বনদফতরের বিশাল জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল ওই কার্যালয়। তৎকালীন শাসকদলের ক্ষমতার দাপটে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলার সাহস পাননি কেউই। যদিও বিরোধীদের দাবি, ২০২২ সাল থেকেই বিজেপি এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সরব ছিল। কিন্তু সে সময় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি।
রাজ্যে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর থেকেই সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া প্রশাসন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই মাসে বনদফতরের তরফে নোটিস ধরানো হয়। পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া হয়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি নির্মাণ সরিয়ে নিতে হবে। নোটিসের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই চাপে পড়ে ঘাসফুল শিবিরের স্থানীয় নেতৃত্ব নিজেরাই বুলডোজ়ার ও জেসিবি নামিয়ে পার্টি অফিস ভাঙার কাজ শুরু করে দেয়।
তৃণমূলের এই ‘আত্মহননমূলক’ পদক্ষেপকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতা সুমন্ত মণ্ডলের কটাক্ষ, “বিড়াল তো এমনি এমনি গাছে ওঠে না, ঠেলায় পড়লে তবেই ওঠে। তৃণমূল ভেবেছিল সারাজীবন এভাবেই বেআইনি কাজ চালিয়ে যাবে। আমরা তো আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলাম যে, ক্ষমতায় এলে বুলডোজ়ার দিয়েই এসব জবরদখলমুক্ত করব। এখন পুলিশের কড়া নির্দেশ আর আমাদের চাপে পড়েই ওরা ভয় পেয়ে নিজেরাই অফিস ভাঙছে।”
উল্টোদিকে তৃণমূলের সাফাই, তাদের দাবি, তারা নাকি জানতেনই না যে কার্যালয়টি বনদফতরের জমিতে নির্মিত। তবে প্রশাসনিক নোটিস পাওয়ার পরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা নিজেরাই ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো বুলডোজ়ার চলেনি, তারা নিজেরাই জায়গা ফাঁকা করে দিয়েছে—এমনটাই দাবি করছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের এই লড়াই এখন তৃণমূলের অস্বস্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের ঘর নিজেই ভাঙার এই ঘটনা প্রমাণ করে, রাজ্যে রাজনৈতিক হাওয়া যে পুরোপুরি বদলে গিয়েছে।





