বিহারের মসনদে টিকে গেলেন সম্রাট, বিধানসভায় তেজস্বীর ‘পাগড়ি’ খোঁচা ঘিরে তুঙ্গে তরজা!

বিহারের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়। বিধানসভায় আস্থা ভোটে বড় জয় পেলেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। শুক্রবার এক বিশেষ অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে সরকার। তবে এই অধিবেশন কেবল ভোটাভুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, শাসক ও বিরোধী পক্ষের বাগযুদ্ধে সরগরম হয়ে ওঠে সংসদ।

বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “সম্রাট চৌধুরী তো লালুপ্রসাদ যাদবেরই শিষ্য। বিহার এক বিস্ময়কর রাজ্য, যেখানে ৫ বছরে ৫ বার সরকার বদলায়।” নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিজেপিকে তোপ দেগে তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকারের কোষাগার আজ শূন্য। লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীর বেতন বাকি থাকা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এমনকি সম্রাট চৌধুরীর পাগড়ি নিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তিনি।

পাল্টা জবাবে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর সরকার ‘ট্রিপল সি’ অর্থাৎ ক্রাইম (অপরাধ), কমিউনালিজম (সাম্প্রদায়িকতা) এবং করাপশন (দুর্নীতি)-র সঙ্গে কোনও আপস করবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও জেডিইউ নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি রাজ্যের উন্নয়নের একটি রূপরেখা পেশ করেন। সম্রাটের বড় ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম হল— সীতামঢ়ীর নাম পরিবর্তন করে ‘সীতাপুরম’ রাখা, পাটনায় ৬০০০ একরের বিশাল ‘পাটলিপুত্র টাউনশিপ’ নির্মাণ এবং প্রতিটি জেলায় বিমানবন্দর বা হেলিপ্যাড তৈরি করা। এছাড়া নারীদের নিরাপত্তায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে মহিলা পুলিশ মোতায়েন এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণাও করেছেন তিনি। কোষাগার শূন্য হওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজেন্দ্র যাদব জানান, রাজ্য ঋণের সীমার মধ্যেই আছে এবং উন্নয়ন থেমে থাকবে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy