বিহারের পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটতে চলেছে। কাচ্চি দরগাহ থেকে বিদুপুর পর্যন্ত বিস্তৃত বহুল প্রতীক্ষিত ছয় লেনের গঙ্গা সেতুটি আগামী মাসেই সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হতে চলেছে। এই সেতুটি চালু হওয়া মানেই উত্তর ও দক্ষিণ বিহারের মধ্যে কয়েক ঘণ্টার দূরত্ব এখন নিমেষের মামলা। বিশেষ করে পাটনা থেকে সমস্তিপুর যাওয়ার পথে আর দীর্ঘ যানজটে বসে থাকতে হবে না।
প্রকৌশলবিদ্যার বিস্ময় ও গতি: সেতুটির সংযোগকারী রাস্তাসহ মোট দৈর্ঘ্য ১৯.৫ কিলোমিটার, যার মূল অংশ ৯.৭৫ কিলোমিটার। এটি একটি ‘এক্সট্রা-ডোজড কেবল-স্টেয়ড’ প্রযুক্তিতে তৈরি আধুনিক সেতু। ৩২ মিটার চওড়া এই সিক্স-লেন সেতুতে গাড়িগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারবে। রোববার সেতুর শেষ স্প্যান বা অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা এক বিরাট মাইলফলক।
বাজেট ও অর্থায়ন: ২০১৫ সালের আগস্টে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয়। এই প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ৩,০০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে এবং বিহার সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করেছে আরও ২,০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ৫,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে বিহারের যোগাযোগের মানচিত্র বদলে যাচ্ছে।
আর্থ-সামাজিক প্রভাব: রাজ্য সরকারের মতে, এই সেতুটি চালু হলে মহাত্মা গান্ধী সেতুর উপর চাপ কমবে। কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে আসবে জোয়ার। সবথেকে বড় সুবিধা পাবেন মুমূর্ষু রোগীরা, কারণ দ্রুত উত্তর বিহার থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাটনায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। ২০২৬ সালের মে মাসের শেষ নাগাদ এই সেতু পুরোপুরি কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।





