বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা। ভাঙড়ের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়িতে আকস্মিক হানা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। নির্বাচনের সময় ভাঙড়ে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এই তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।
কেন এই তল্লাশি? সূত্রের খবর, গত ১৯ মার্চ ভাঙড়ে একটি বিস্ফোরণে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনার তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই এনআইএ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার সকালে বিশাল বাহিনী নিয়ে শওকত মোল্লার বাসভবনে পৌঁছান তদন্তকারীরা। বর্তমানে তাঁর বাড়িতে বিভিন্ন নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। যদিও এনআইএ-র পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। শওকতের স্ত্রী সায়রা বানু মোল্লা জানিয়েছেন, এনআইএ থেকে তাঁকে তলব করা হয়েছিল, তবে ঠিক কী কারণে এই অভিযান, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
রাজনীতিতে নড়চড় ও নতুন জল্পনা রাজনৈতিক মহলে শওকত মোল্লাকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই তুঙ্গে জল্পনা। ক্যানিং পূর্ব থেকে সরিয়ে ভাঙড়ে নওশাদ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে লড়তে পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি তৃণমূলের মূল কর্মকাণ্ড থেকে প্রায় আড়ালে চলে গিয়েছিলেন।
ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে বুধবার রাতে, যখন বিধানসভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শওকত মোল্লাকে প্রায় ১০ মিনিট একান্তে কথা বলতে দেখা যায়। এই বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—শওকত কি তবে দলবদলের পথে? তিনি কি মমতা-অভিষেক শিবিরের বাইরে নিজের আলাদা কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছেন?
নিশানায় প্রাক্তন বিধায়ক একদিকে নির্বাচনী হার, অন্যদিকে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—এর মধ্যেই এনআইএ-র এই অভিযান শওকত মোল্লার বিপদ আরও বাড়িয়ে দিল কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই তল্লাশি নিছকই বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্ত, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো রাজনৈতিক ইঙ্গিত, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





