রূপোলি পর্দায় অজয় দেবগনের ‘সিংঘম’ অবতার দেখে আমরা হাততালি দিই। কিন্তু বাংলার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে এবার নামল বাস্তবের এক ‘সিংঘম’। তিনি আইপিএস অজয় পাল শর্মা। একাধারে তিনি ডেন্টাল সার্জন, অন্যদিকে অপরাধীদের কাছে সাক্ষাৎ ‘যম’। সোমবার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসদীয় এলাকা ডায়মন্ড হারবারের ফলতায় পা দিয়েই নিজের মেজাজ বুঝিয়ে দিলেন এই দুঁদে পুলিশ কর্তা।
“বিষদাঁত ভেঙে দেব”: জাহাঙ্গীরের ডেরায় গর্জন
ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে মৃত ভোটারের নাম তালিকায় তোলা থেকে শুরু করে ভোটারদের ভয় দেখানোর ভুরিভুরি অভিযোগ জমা পড়েছিল নির্বাচন কমিশনে। সোমবার জাহাঙ্গীরকে সবক শেখাতে সটান তাঁর বাড়িতে হাজির হন দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ অবজার্ভার অজয় পাল।
পুলিশ কর্তা আসছেন শুনেই জাহাঙ্গীর খান গা-ঢাকা দিলেও রেহাই মেলেনি। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েই অজয় পালের হুঙ্কার— “দুষ্কৃতীদের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হবে।” পেশায় ডাক্তার হওয়ায় তাঁর এই ‘বিষদাঁত’ ভাঙার দাওয়াই যে স্রেফ কথার কথা নয়, তা হাড়হাভাতে টের পাচ্ছে এলাকা।
ডাক্তার থেকে এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট: কে এই অজয় পাল?
পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্ম অজয় পালের। পাতিয়ালা কলেজ থেকে ডেন্টাল সার্জারিতে ডিগ্রি অর্জনের পর ডাক্তারি না করে ২০১১ সালে আইপিএস হিসেবে যোগ দেন উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারে। তাঁর কেরিয়ারের ট্র্যাক রেকর্ড চমকে দেওয়ার মতো:
যোগীরাজ্যের ত্রাস: তাঁর নামের পাশে রয়েছে একের পর এক সফল এনকাউন্টার।
ডিজি স্বর্ণপদক: ২০২৫ সালে নিজের অসাধারণ কাজের জন্য ডিজির স্বর্ণপদক লাভ করেন।
মহাকুম্ভের দায়িত্ব: ২০২৪-এর মহাকুম্ভ মেলায় নোডাল অফিসার হিসেবে কাজ সামলেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে।
ফলতায় ‘সিংঘম’ আতঙ্ক
নির্বাচন কমিশন বাংলার স্পর্শকাতর এলাকায় উত্তরপ্রদেশের এই ‘টাফ’ অফিসারকে নিয়োগ করার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছিল। সোমবারের অভিযান প্রমাণ করে দিল, ভোটের দিন কোনো রকম ‘বদমাইশি’ বরদাস্ত করবেন না এই অফিসার। ফলতাবাসীর মুখে এখন একটাই কথা— সিনেমার সিংঘম তো অনেক দেখেছি, এবার বাস্তবের অ্যাকশন দেখার পালা!





