বিশ্বের কনিষ্ঠতম দাবা চ্যাম্পিয়ন (Youngest World Chess Champion) ডি গুকেশ (D Gukesh) স্বীকার করেছেন, খেতাব জেতার পর টুর্নামেন্টে প্রতিযোগিতা করা এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা, যা তাঁর ওপর “অতিরিক্ত চাপ” সৃষ্টি করছে। এই চাপ যেন মুকুট ধরে রাখার এক নিরন্তর চ্যালেঞ্জ।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে, গুকেশ ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের ১৪তম এবং শেষ গেমে ডিং লিরেনকে (Ding Liren) পরাজিত করে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন।
অতিরিক্ত চাপের কথা স্বীকার:
খেতাব জেতার পর থেকেই গুকেশ এখনো কোনো টুর্নামেন্ট জিততে পারেননি। এই চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করে তিনি X (টুইটার)-এ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে এক আলোচনায় বলেন:
“অবশ্যই (বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলার) অতিরিক্ত চাপ আছে এবং আমি তা অনুভব করি। তবে আমার ক্যারিয়ারে আমি প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত বা দেরিতে হলেও মানিয়ে নিয়েছি। আমি নিশ্চিত এবারও তা করব!”
র্যাঙ্কিং নিয়ে চিন্তা নেই:
বিশ্বের ১ নম্বর (World No. 1) র্যাঙ্কিংয়ের জন্য তিনি খুব বেশি চিন্তা করেন না বলে জানিয়েছেন গুকেশ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি লেখেন, “আমি জানি আমি এর জন্য আমার সেরাটা দেব। তবে এটা হোক বা না হোক, আমি আমার প্রচেষ্টায় খুশি থাকব।”
কম্পিউটার ট্রেনিং ও সৃজনশীলতা:
কম্পিউটার-ভিত্তিক প্রশিক্ষণের প্রভাব নিয়েও গুকেশ তাঁর মতামত প্রকাশ করেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন যে এটি প্রচুর জ্ঞান সরবরাহ করে, তবুও তিনি সতর্ক করেন যে এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
“কম্পিউটার দিয়ে প্রশিক্ষণের সুবিধা এবং অসুবিধা দুটোই আছে। আপনি অনেক নতুন ধারণা শিখতে পারেন এবং কাজ সহজ হয়। কিন্তু যদি এটি সীমা অতিক্রম করে, তবে তা কিছুটা সৃজনশীলতা নষ্ট করতে পারে,” তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দশম স্থানে থাকা গুকেশ জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতার বাইরেও তিনি একজন ভিন্ন মানুষ— এমন মন্তব্য অনীশ গিরি (Anish Giri) সম্প্রতি করেছিলেন। তবে গুকেশ স্বীকার করেন, গত কয়েক বছর ধরে তিনি আরও বেশি মিশুক এবং খোলামেলা হয়ে উঠেছেন।