বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল ভারত। মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার সরাসরি ভারতীয় টাকায় (INR) ইরানের কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক মহলের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে ভারতের এই ‘বিকল্প লেনদেন পদ্ধতি’ এখন বিশ্বজুড়ে চর্চার বিষয়।
কী এই ‘বুদ্ধিদীপ্ত’ কৌশল?
পশ্চিমী দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে ডলারে লেনদেন করা অত্যন্ত জটিল। তাই ভারত ও ইরান সরকার এক অভিনব বিনিময় প্রথা (Barter-like system) গড়ে তুলছে:
টাকায় পেমেন্ট: ভারত ইরানের তেলের দাম সরাসরি ভারতীয় টাকায় মিটিয়ে দেবে।
রপ্তানির সুযোগ: ইরান সেই টাকা দিয়ে ভারত থেকেই বাসমতী চাল, চা, ওষুধ (Pharmaceuticals), টেক্সটাইল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চক্র: এতে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার (Forex) সাশ্রয় হবে এবং ভারতীয় পণ্য রপ্তানির নতুন বাজার তৈরি হবে।
কেন সেলাম জানাচ্ছে বিশ্ববাসী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল দুই দেশের অর্থনৈতিক সুবিধা নয়, বরং এটি একটি বড় কূটনৈতিক জয়। ডলারের একাধিপত্য কমিয়ে আঞ্চলিক মুদ্রায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করার যে সাহস ভারত দেখিয়েছে, তাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে অনেক দেশ। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝেও ভারতের এই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশলকে ‘বিচক্ষণ’ বলে অভিহিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
টাকা-রিয়াল বিনিময় প্রথা আগেও আংশিকভাবে কার্যকর ছিল, কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। ভারতের এই সফল মডেল ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলিকেও বিকল্প মুদ্রা ব্যবস্থার দিকে উৎসাহিত করতে পারে।
ভারতের লাভ কোথায়?
১. বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: ডলার কিনতে অতিরিক্ত খরচ করতে হবে না। ২. রপ্তানি বৃদ্ধি: ক্ষুদ্র শিল্প ও কৃষিপণ্যের চাহিদা ইরানে কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ৩. কূটনৈতিক অবস্থান: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে।
এডিটরস ইনসাইট: ভারতের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে ভারত এখন আর কেবল বিশ্ববাজারের অনুসারী নয়, বরং নিয়ম নির্ধারক (Rule Maker)। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র পর ‘রুপি ইন গ্লোবাল ট্রেড’ হতে চলেছে ভারতের পরবর্তী বড় সাফল্য।





