বিশ্ব অর্থনীতিতে ফের সিঁদুরে মেঘ! পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে (Strait of Hormuz) কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই বিবাদের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ওপর। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম একলাফে ৬.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা জাগিয়ে তুলছে।
সংকটের সূত্রপাত: গত কয়েক দিন ধরেই হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছিল। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় যখন দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলে। বর্তমানে সেখানে অসংখ্য তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের স্বার্থ বিঘ্নিত হলে তারা এই জলপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনী সেখানে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়ে পাল্টা চাপের কৌশল নিয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতা: হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) তেল সরবরাহ হয়। এই পথ রুদ্ধ হওয়ার সামান্যতম আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ডাব্লুটিআই (WTI) তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। সোমবার বাজার খোলার পর থেকেই তেলের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাল প্রতি ৮৭.৮৮ ডলারে পৌঁছেছে, আর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ৯৬.২৫ ডলারে।
ভারতের ওপর প্রভাব: ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, যা এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। যদি এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ভারতের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড গড়তে পারে। এমনকি জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজি (LNG)-র সরবরাহও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আগামী দিনগুলোতে কী হবে? কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার চেষ্টা চললেও এখনও পর্যন্ত কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি। আমেরিকা ও ইরান—উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। এই সামরিক উত্তজনা যদি সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের শক্তি সরবরাহকারী এই ‘লাইফলাইন’ কি শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যাবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।





