বিশ্বজুড়ে ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আনন্দ যেন সাধারণ ভক্তদের নাগাল থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর স্টেডিয়ামে উত্তেজনা থাকলেও, মাঠের বাইরে ভক্তদের অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। আকাশচুম্বী টিকিটের দাম, ভ্রমণ খরচ এবং জটিল ভিসা প্রক্রিয়ার কারণে হাজার হাজার প্রকৃত ফুটবল প্রেমী এই টুর্নামেন্টের স্বাদ নিতে পারছেন না।
টিকিটের অস্বাভাবিক দাম ও খালি গ্যালারি: ইটি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার টিকিটের দাম এতই বেশি যে অনেক ম্যাচেই স্টেডিয়ামের আসন খালি পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি কাতার-সুইজারল্যান্ড বা দক্ষিণ কোরিয়া-চেক প্রজাতন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও হসপিটালিটি সেকশনে অসংখ্য আসন খালি ছিল। ফিফা কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের পর, বিভিন্ন পুনঃবিক্রয় (resale) প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দাম এতই বেড়ে যাচ্ছে যে সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে তা। ফলে মাঠের গ্যালারিতে উত্তেজনার বদলে অনেক জায়গায় দেখা মিলছে নিস্তব্ধতার।
ভিসা জটিলতা ও আতঙ্কের পরিবেশ: টিকিটের পাশাপাশি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর নিয়মকানুন। লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা মারিয়া প্রাইসের দাবি, দেশটিতে কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে অনেক মেক্সিকান ও অন্য দেশের সমর্থকরা ভিড় এড়িয়ে চলছেন। ভিসা অনুমোদন ও ভ্রমণের কাগজপত্রের জটিলতা বহু ভক্তের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
হাজার ডলারের চাপ: মরক্কোর সমর্থক আইয়ুব মুসানোভিচ জানান, মাত্র একটি টিকিট পেতে তাকে ১,৭০০ ডলার খরচ করতে হয়েছে। আবার অনেক সমর্থক যাতায়াত ও ম্যাচ দেখা মিলিয়ে ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করেছেন। টরন্টো ও নিউইয়র্কের রাস্তায় এমন অনেক ভক্তকে দেখা গেছে যারা টিকিটের দাম মেটাতে না পেরে স্টেডিয়ামের বাইরে বসে মোবাইলে ম্যাচ দেখছেন। বিশ্বকাপের আবহ মিস করতে চান না বলেই এই যন্ত্রণা সহ্য করছেন তারা।
দলের সংখ্যা বৃদ্ধি বনাম ভক্তের কষ্ট: এ বছর ফিফা বিশ্বকাপের দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করায় ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে। এতে অনেক নতুন দেশ সুযোগ পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু মাঠের বাইরের অব্যবস্থাপনা ফিফার এই বড় আয়োজনের গ্ল্যামারে অনেকটাই ভাটা ফেলেছে। ফুটবল বিশ্বের সেরা এই টুর্নামেন্ট কি তবে শুধুই ধনীদের জন্য? এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মনে।





