লিভ-ইন রিলেশনশিপ বা বিয়ের আগে একত্রবাস নিয়ে ফের নিজের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি.ভি. নাগরত্ন। সোমবার (২৭ এপ্রিল, ২০২৬) একটি মামলার শুনানি চলাকালীন তাঁর মন্তব্য ঘিরে আইনি মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস এবং পরবর্তীতে বিচ্ছেদের পর ধর্ষণের অভিযোগ আনা নিয়ে বিচারপতির প্রশ্ন— “কেন কেউ বিয়ের আগে একত্রে থাকতে যান?”
ঠিক কী বলেছিলেন বিচারপতি?
একটি মামলার শুনানিতে, যেখানে এক মহিলা অভিযোগ করেছিলেন যে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে ১৫ বছর ধরে সহবাস করা হয়েছে, সেখানে বিচারপতি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মন্তব্য করেন:
ভিক্টিম-শেমিংয়ের ভয়: বিচারপতি বলেন, “এখন যদি আমরা এই প্রশ্ন করি, তবে বলা হবে আমরা ‘ভিক্টিম-শেমিং’ (ভুক্তভোগীকে দোষারোপ) করছি। কিন্তু প্রশ্ন তো এসেই যায়, বিয়ের আগে কেন কেউ একসঙ্গে থাকতে গেলেন?”
আইনি সুরক্ষার অভাব: তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, লিভ-ইন রিলেশনশিপে কোনো আইনি বন্ধন থাকে না। ফলে সঙ্গী যদি ছেড়ে চলে যায়, তবে তা সরাসরি কোনো ফৌজদারি অপরাধ (Criminal Offence) হিসেবে গণ্য করা কঠিন।
পুরনো ধ্যানধারণার প্রশ্ন: বিচারপতি নিজেই উল্লেখ করেন, “হয়তো আমরা পুরনো আমলের মানুষ হতে পারি, কিন্তু বিয়ের আগে ছেলে এবং মেয়ে একে অপরের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত। তাই মেলামেশার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।”
১৫ বছরের সম্পর্ক ও ধর্ষণের অভিযোগ
আদালতে সংশ্লিষ্ট মামলাটিতে আবেদনকারী দাবি করেন যে, তাঁকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্কের মধ্যে রাখা হয়েছিল এবং তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি নাগরত্ন মন্তব্য করেন যে, বিয়ের আগে সম্পর্কের এই ‘ঝুঁকি’ (Risk) সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত। তিনি আরও জানান, যদি বিবাহিত সম্পর্ক হতো, তবে ওই মহিলা খোরপোশ বা আইনি প্রতিকার সহজে পেতেন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু
বিচারপতির এই মন্তব্য সামনে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে: ১. একপক্ষের দাবি: বিচারপতির কথা বাস্তবসম্মত। আইনি সুরক্ষা ছাড়া লিভ-ইন সম্পর্কের ঝুঁকি নারীদেরই বেশি ভোগাতে হয়। ২. অন্যপক্ষের দাবি: এই ধরণের মন্তব্য ভুক্তভোগীর ওপর দায় চাপানোর সমান। আধুনিক যুগে ব্যক্তিগত পছন্দকে আইনিভাবে ‘পুরনো আমলের’ বলা উচিত নয়।
আদালতের বার্তা: বিচারপতি নাগরত্ন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সব সম্মতিসূচক সম্পর্কের বিচ্ছেদ মানেই ‘ধর্ষণ’ নয়। তবে সম্পর্কের জেরে জন্ম নেওয়া সন্তানের ভরণপোষণের অধিকার অবশ্যই সুরক্ষিত থাকা উচিত।
সম্পাদকের নোট: এর আগেও ফেব্রুয়ারি মাসে দুবাই সফররত এক যুগলের মামলাতেও বিচারপতি নাগরত্ন একই ধরণের সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলেছিলেন। আজকের এই মন্তব্য যেন সেই অবস্থানেরই আরও এক ধাপ কড়া বহিঃপ্রকাশ।





