বিয়েবাড়িতে মহুয়া-কল্যাণ ম্যাজিক! সব তিক্ততা ভুলে এক ফ্রেমে দুই যুযুধান সাংসদ, তোলপাড় রাজনীতি

রাজনীতিতে যে চিরস্থায়ী শত্রু বলে কিছু হয় না, সেই পুরনো প্রবাদটিই আরও একবার সত্যি প্রমাণিত হলো। দীর্ঘদিনের তিক্ততা, বাগযুদ্ধ এবং প্রকাশ্য সংঘাতের ইতিহাস মুছে ফেলে রবিবার রাতে এক ফ্রেমে ধরা দিলেন তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট সাংসদ— মহুয়া মৈত্র এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। উপলক্ষ ছিল তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং প্রবীণ সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাইয়ের কন্যার বিবাহ অনুষ্ঠান। সেখানেই এই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে যে মেজাজে দেখা গেল, তাতে রীতিমতো চমকে গেছেন রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষকরা।

তৃণমূলের অন্দরে মহুয়া বনাম কল্যাণের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। সংসদীয় কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠক থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া বা জনসভা— একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে কোনও কসুর করেননি তাঁরা। পরিস্থিতি একসময় এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে, মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে বাদানুবাদের জেরে ক্ষোভে সংসদীয় দলের চিফ হুইপের পদ পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন শ্রীরামপুরের অভিজ্ঞ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা আক্রমণে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়াও পিছিয়ে থাকেননি; তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘নারীবিদ্বেষী’ তকমা দিতেও দ্বিধা করেননি। দলের অন্দরে এই ফাটল মেটাতে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একাধিকবার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল।

তবে রবিবার রাতের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিয়ের আসরে জাঁকজমকপূর্ণ আবহে সমস্ত মান-অভিমান এবং রাজনৈতিক তিক্ততাকে দূরে সরিয়ে রেখে খোশমেজাজে গল্প করতে দেখা গেল তাঁদের। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুধু সৌজন্য বিনিময় নয়, দীর্ঘক্ষণ হাসিমুখে একে অপরের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁরা। সখ্যতা এতটাই গভীর ছিল যে, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ক্যামেরায় পোজও দিয়েছেন এই দুই সাংসদ।

পরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেই মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। ক্যাপশনেও ছিল বন্ধুত্বের সুর। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায় নেটপাড়ায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি দলের অন্দরে নতুন কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত মহুয়া-কল্যাণের এই ‘বন্ধুত্ব’ বঙ্গ রাজনীতির সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy