‘রাখে হরি মারে কে’ – এই প্রবাদ বাক্যটি যেন আবারও প্রমাণিত হলো আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায়। গত বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, দুপুরে সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওড়ার মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যেই গুজরাটের মেঘানিনগরে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার অভিশপ্ত এআই১৭১ বোয়িং ড্রিমলাইনার বিমানটি। ১ লক্ষ লিটারেরও বেশি জ্বালানি নিয়ে উড়ছিল বিমানটি, যা বিজে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের ছাদে আছড়ে পড়ার পরই ভয়াবহ বিস্ফোরণে জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পাইলট, ক্রু সদস্য সহ ২৪১ জন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে, এই ব্যাপক ধ্বংসলীলার মাঝে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন বিমানের একমাত্র যাত্রী, বিশ্বাস কুমার রমেশ (৪০)। মুখ ও হাত-পায়ে সামান্য ছড়ে যাওয়া ছাড়া তার বিশেষ কোনো ক্ষতি হয়নি। নিজেই হেঁটে অ্যাম্বুলেন্সে উঠেছেন তিনি।
অবিশ্বাস্য উদ্ধার ও বিশ্বাসেরই অবিশ্বাস্য বর্ণনা
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩৮ মিনিট নাগাদ বিমানটি ভেঙে পড়ার পর আহমেদাবাদ পুলিশের কমিশনার জিএস মালিকই প্রথম এই খবর জানান যে, সিট ১১এ থেকে একমাত্র একজন যাত্রীকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আর কেউ নন, বিশ্বাস কুমার রমেশ। লন্ডন প্রবাসী রমেশ গুজরাটে এসেছিলেন পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। দুর্ঘটনার দিনই দাদা অজয় কুমার রমেশের সঙ্গে তার লন্ডনে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। সেই যাওয়া আর হয়নি। বিমানটি ভেঙে পড়ার মুহূর্তে ইমার্জেন্সি এক্সিটের সামনে বসায় তিনি ছিটকে বেরিয়ে যান, আর তাতেই রক্ষা পান। তবে ২৪২ জনের মধ্যে একমাত্র তিনিই বেঁচে, এই কথাটা যেন তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দুর্ঘটনার পরের মুহূর্ত বর্ণনা করে বিশ্বাস কুমার রমেশ বলেন, “আমার চারপাশে শুধু মৃতদেহ ছিল। বিমান টুকরো টুকরো হয়ে আমার চারিদিকে পড়েছিল। হঠাৎ কেউ একজন আমায় টেনে তুলল আর অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে গেল।”
৩০ সেকেন্ডেই সব শেষ
বিমানটি যখন ভেঙে পড়তে চলেছে, তখন কি তিনি কিছু আঁচ করতে পেরেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বিশ্বাস বলেন, “টেক অফের ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে জোরে একটা শব্দ হয়। তারপরই প্লেন ক্র্যাশ হয়ে গেল। সব কিছু এত তাড়াতাড়ি হয়ে গেল।”
বর্তমানে গুজরাটের সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিশ্বাস কুমার রমেশ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বুক, চোখ ও পায়ে আঘাত রয়েছে। তবে নিজের শারীরিক যন্ত্রণার থেকেও তাকে বেশি কষ্ট দিচ্ছে দাদার মৃত্যু এবং তার আশেপাশে থাকা সমস্ত যাত্রীর মৃত্যু। এই অভিশপ্ত স্মৃতি হয়তো তার মনে গভীর ক্ষত তৈরি করবে। এক মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা, বিশ্বাস কুমার রমেশের জীবনকে এক নতুন মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তার এই অলৌকিক বেঁচে ফেরা একদিকে যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে বিমান দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।