আহমেদাবাদের বিজে মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে এক বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা আজও একটি দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়ায় স্থানীয়দের। গত বছরের জুনের সেই দুপুরে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান আছড়ে পড়ার ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ আজও যেন এক জীবন্ত ক্ষত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রহ্লোদ ঠাকুরের মতো মানুষরা আজও রোজ সকালে নাতনি আধ্যা ও স্ত্রী সরলাবেনের ছবির দিকে তাকিয়ে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ওইদিন দুপুরের খাবার পরিবেশনের সময় আচমকা নেমে এসেছিল মৃত্যু।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে দেখা যায়, দুর্ঘটনার ক্ষতচিহ্নগুলো এখনো অমলিন। মেস বিল্ডিংয়ের উপরের তলার ছাদ আকাশের দিকে হাঁ করে চেয়ে আছে, সিড়িতে ধোঁয়ার কালো কালির দাগ এখনো স্পষ্ট। স্থানীয় কর্মকর্তারা ভবনটি ভেঙে নতুন হোস্টেল তৈরির অনুমতি দিলেও, আজও সেই ধ্বংসস্তূপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শিউরে ওঠেন ছাত্রছাত্রীরা। আকাশে বিমানের শব্দ এখন আর আগের মতো স্বাভাবিক মনে হয় না; প্রতিটি শব্দ যেন সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণের স্মৃতিকে উসকে দেয়।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে ব্যস্ত থাকা আরমান খান পাঠান ও আদিত্য দয়ালের মতো ছাত্ররা আজও সেই পোড়া গন্ধ ভুলতে পারেননি। মৃত্যুর মিছিলে পরিচিতদের হারিয়ে ফেলা এবং মরদেহ শনাক্ত করার সেই কঠিন অভিজ্ঞতার ক্ষত আজও তাদের তাড়া করে। মেডিক্যাল কলেজের ডিন মীনাক্ষী পারিখের স্মৃতিতেও অমলিন সেই শোকের মুহূর্তগুলো—যখন স্বজনহারা মানুষরা ডিএনএ টেস্টের অপেক্ষা না করে নিজেদের চোখে প্রিয়জনকে খুঁজে নিতে চাইছিলেন।
জীবনের ছন্দ ফিরে এসেছে ঠিকই, কিন্তু প্রহ্লোদ ঠাকুরের ফোনে থাকা ভিডিওতে আধ্যা ও সরলাবেনের হাসিমুখগুলো আজও যেন সেই অকাল বিদায়ের গল্প বলে। বর্ষপূর্তিতে প্রার্থনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিলেও, ক্ষত ভোলার চেয়ে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার কঠিন পথই বেছে নিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে সময় পার হয়ে যায়, কিন্তু হৃদয় থেকে সেই ধোঁয়ার গন্ধ আর বিস্ফোরণের আতঙ্ক সহজে মোছার নয়।





