সুরক্ষিত বিনিয়োগ এবং নিশ্চিত রিটার্নের জন্য ভারতবাসীর অন্যতম ভরসা হলো পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF)। বর্তমানে এই প্রকল্পে বার্ষিক ৭.১ শতাংশ হারে সুদ দিচ্ছে সরকার। কিন্তু অনেক সময় সামান্য অসাবধানতায় এই লাভজনক অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় বা ইনঅ্যাক্টিভ হয়ে যেতে পারে। আপনিও কি বছরে ন্যূনতম টাকা জমা দিতে ভুলে গেছেন? তবে জেনে নিন, এই ছোট ভুলের মাসুল আপনাকে কতটা বড়ভাবে দিতে হতে পারে।
৫০০ টাকার গুরুত্ব: সামান্য ভুলে বড় ক্ষতি
পিপিএফ-এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি আর্থিক বছরে একজন গ্রাহককে ন্যূনতম ৫০০ টাকা জমা করতেই হয়। যদি কোনও বছরে আপনি এই টাকা জমা না দেন, তবে আপনার অ্যাকাউন্টটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘নিষ্ক্রিয়’ হয়ে যাবে। এর ফলে:
অ্যাকাউন্টে নতুন করে কোনও টাকা জমা দেওয়া যাবে না।
চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compounding Interest) যে বিশাল সুবিধা পাওয়া যায়, তা ব্যাহত হবে।
অ্যাকাউন্ট থেকে আংশিক টাকা তোলা বা ঋণের (Loan) সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
জরিমানা ও অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালুর নিয়ম
আপনার অ্যাকাউন্ট যদি বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। এটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। তবে তার জন্য আপনাকে: ১. সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে একটি লিখিত আবেদন জমা দিতে হবে। ২. প্রতি বছরের বকেয়া কিস্তির পাশাপাশি বছরে ৫০ টাকা হারে জরিমানা দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ: যদি আপনার অ্যাকাউন্ট ২ বছর বন্ধ থাকে, তবে ১০০ টাকা জরিমানা এবং ১,০০০ টাকা বকেয়া কিস্তি মিলিয়ে মোট ১,১০০ টাকা জমা দিয়ে অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় করতে হবে।
সুদের লাভ সর্বোচ্চ করার গোপন উপায়
পিপিএফ-এ সুদের হিসেব কষা হয় প্রতি মাসের ৫ তারিখ থেকে মাসের শেষ দিনের মধ্যবর্তী সর্বনিম্ন ব্যালেন্সের ওপর ভিত্তি করে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো:
যদি এককালীন বড় অঙ্কের টাকা জমা দিতে চান, তবে বছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে তা জমা দিন।
আর যদি প্রতি মাসে কিস্তি দেন, তবে অবশ্যই মাসের ৫ তারিখের মধ্যে টাকা জমা করুন। এতে আপনার বার্ষিক সুদের আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
বিনিয়োগের ছোট ছোট নিয়ম মেনে চললে দীর্ঘমেয়াদে আপনি কয়েক লক্ষ টাকা অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। আপনার সঞ্চয়কে সুরক্ষিত রাখতে এবং লেটেস্ট আপডেট পেতে চোখ রাখুন ডেইলিয়ান্ট-এর পর্দায়।





