আপনি কি ছাত্রছাত্রী? আপনার হোয়াটসঅ্যাপে কি সরকারি ল্যাপটপ পাওয়ার কোনো মেসেজ এসেছে? সাবধান! একটি লিঙ্কে ক্লিক করলেই আপনি পড়তে পারেন সাইবার অপরাধীদের কবলে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া একটি মেসেজ নিয়ে চরম সতর্কতা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য যাচাইকারী সংস্থা PIB Fact Check।
ভাইরাল মেসেজে কী বলা হচ্ছে?
হোয়াটসঅ্যাপে আসা ওই বার্তায় দাবি করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্পের অধীনে দেশের সমস্ত পড়ুয়াকে বিনামূল্যে ল্যাপটপ দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য একটি লিঙ্কে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হচ্ছে। সেখানে নাম, মোবাইল নম্বর এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের গোপন তথ্যও চাওয়া হচ্ছে। মেসেজটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের মনে হয় এটি কোনো সরকারি স্কিম।
আসল সত্যটা কী? (Fact Check)
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এমন কোনো স্কিম বা বার্তা পাঠানো হয়নি। এটি সম্পূর্ণ একটি ভুয়ো মেসেজ এবং বড়সড় আর্থিক প্রতারণা চক্রের ফাঁদ।
[Image: Fact Check ‘FAKE’ stamp on the viral laptop message]
কীভাবে কাজ করে এই জালিয়াতি?
১. ফিশিং ওয়েবসাইট: লিঙ্কে ক্লিক করলেই আপনাকে একটি সরকারি দেখতে ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হবে। ২. তথ্য সংগ্রহ: সেখানে ফর্ম পূরণ করার অছিলায় আপনার আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক ডিটেলস এবং ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হবে। ৩. প্রসেসিং ফি-র টোপ: কিছু ক্ষেত্রে ল্যাপটপ ডেলিভারির জন্য নামমাত্র ‘প্রসেসিং ফি’ বা ওটিপি (OTP) চাওয়া হতে পারে। একবার সেই তথ্য দিলেই আপনার অ্যাকাউন্ট সাফ করে দেবে জালিয়াতরা।
নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে?
অজানা লিঙ্ক এড়িয়ে চলুন: হোয়াটসঅ্যাপে আসা কোনো সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করবেন না।
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট যাচাই করুন: যেকোনো সরকারি প্রকল্পের সত্যতা যাচাই করতে সরাসরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (যেমন— .gov.in যুক্ত সাইট) যান।
ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার নয়: ব্যাঙ্কের তথ্য বা ওটিপি ফোনে বা লিঙ্কে কাউকে দেবেন না।
রিপোর্ট করুন: এমন মেসেজ পেলে তা কাউকে ফরোয়ার্ড না করে অবিলম্বে মুছে ফেলুন এবং PIB Fact Check-এর কাছে রিপোর্ট করুন।





