দিল্লির রাজনীতির অলিন্দে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা টানাপোড়েন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। লোকসভার স্পিকারের কাছে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের দরবার এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্বের জল্পনার মধ্যেই এবার নতুন করে শিরোনামে উঠে এলেন জনপ্রিয় সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদেশ সফর শেষ করে দেশে ফেরার পরই তাঁর বিজেপির শীর্ষ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যাওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিদেশ থেকে ফিরে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় আর সময় নষ্ট না করে সরাসরি ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান। সেখানে দুই নেতার মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ একান্ত বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এই বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে তৃণমূল বা বিজেপি—কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে যখন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একাংশ সাংসদের সম্পর্কে শীতল স্রোত বইছে, তখন রচনার এই সাক্ষাৎ নেহাতই সৌজন্যমূলক নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, রচনার বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের জল্পনা এই প্রথম নয়। এর আগে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নিয়েও রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক নতুন করে জল্পনার পালে হাওয়া দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তৃণমূলের একদল সাংসদ দলের অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। তাঁরা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না বলেই দাবি।
রবিবার যখন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তখন রচনার সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি। কারণ, সেই সময়ে তিনি সরকারি কাজে বিদেশ সফরে ছিলেন। ফলে, ওই বৈঠকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ পাননি তিনি। তবে রাজনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর নিজের অবস্থান জানানোর জন্য খুব দ্রুত স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গেও তিনি দেখা করতে পারেন।
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের হয়ে ভোটে জিতে লোকসভায় গেলেও, তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ এখন তৃণমূলের অন্দরের ‘বিক্ষুব্ধ ব্লকের’ সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন বিশ্লেষকরা। রাজ্য রাজনীতিতে যখন একে একে দলের সাংসদদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর শোনা যাচ্ছে, তখন রচনার এই ঘনঘন বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক তৃণমূল হাইকমান্ডের কপালে যে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর নিজের অবস্থান নিয়ে রচনা কী বার্তা দেন। গোটা ঘটনাক্রম এখন দিল্লির রাজনীতির অন্দরমহলে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত কৌতূহল।





