পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া অস্থির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দিল্লিতে হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীগোষ্ঠী। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—পরিস্থিতি যেদিকেই যাক না কেন, ভারত যে কোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তেল-গ্যাসের ভাঁড়ার উপচে পড়ছে!
বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ভারতীয়দের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে এদিনের বৈঠকে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী:
৬০ দিনের তেল মজুত: দেশে বর্তমানে ৬০ দিনেরও বেশি সময়ের জন্য অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিজেল মজুত রয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ: এলএনজি ৫০ দিন এবং রান্নার গ্যাস (LPG) প্রায় ৪০ দিনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত আছে।
বিকল্প পথ: হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও লাতিন আমেরিকা থেকে আমদানি বাড়ানো হয়েছে।
১২,৯৮০ কোটির রক্ষাকবচ ও পিএনজি বিপ্লব
বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ‘ভারত মেরিটাইম ইন্স্যুরেন্স পুল’ গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। ১২,৯৮০ কোটি টাকার সার্বভৌম গ্যারান্টি সহ এই প্রকল্প অস্থির সমুদ্রপথেও ভারতীয় বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। পাশাপাশি, এলপিজির ওপর চাপ কমাতে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা PNG সংযোগে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। গত এক মাসে প্রায় ৪.৭৬ লক্ষ নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
কালোবাজারি রুখতে ‘সারপ্রাইজ’ তল্লাশি
যুদ্ধে আবহে সারের কৃত্রিম সংকট রুখতে দেশজুড়ে ৮,৩৩০টি অভিযান চালিয়েছে সরকার। অনিয়মের অভিযোগে ১৭১টি লাইসেন্স বাতিল এবং ৩২টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ইউরিয়া, ডিএপি-সহ সমস্ত সারের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করেছে কৃষি ও সার মন্ত্রক।
প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বৈঠকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিনিয়ত নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাঁদের দ্রুত সরিয়ে আনা বা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ সেল।





