বিজেপির দখলে খাসমহলের ভেরি! সাতসকালে মাছ ধরলেন দিলীপ ঘোষ, শোরগোল বিধাননগরে

বিধাননগরের খাসমহল এলাকায় সাতসকালে এক চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে খাসমহলের একটি ভেরিতে সরাসরি মাছ ধরতে নেমে পড়লেন বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। মাছ ধরার পাশাপাশি রাজ্যের শাসকদলকে একহাত নিয়ে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, এই ভেরিটি এতদিন তৃণমূল কংগ্রেস জোর করে দখল করে রেখেছিল। আজ তারা সেটি ফিরে পেয়েছেন এবং সেই কারণেই অনুগামীদের নিয়ে এই বিশেষ উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে।

সকালের প্রাতঃভ্রমণ সেরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের একাধিক জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন এই বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা। আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাম্প্রতিক নারকীয় ঘটনাকে “অত্যন্ত বেদনাদায়ক” বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, প্রথম থেকেই গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার একটা মরিয়া চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এটা মেনে নেননি। এর প্রতিবাদে যেভাবে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মোমবাতি হাতে রাস্তায় নেমেছেন, তা রাজ্য প্রশাসনের ব্যর্থতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

একই সঙ্গে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও কড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলেন দিলীপ ঘোষ। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার নির্দিষ্ট কিছু থানার ওসি-দের (Officer-in-Charge) রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি প্রশ্ন করেন, “এরা কি খুব বিখ্যাত?” আইনশৃঙ্খলার এই চরম অবনতি এবং প্রশাসনের কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গকে বহু বছর পিছিয়ে দিয়েছে বলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রাজ্যে কেন্দ্রীয় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের আগমন প্রসঙ্গেও নিজের মতামত জানান দিলীপ ঘোষ। তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরপরই যদি এই ধরনের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গঠন করে তদন্ত করা হতো, তাহলে ভোটের পরবর্তী হিংসায় রাজ্যের এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে ঘরছাড়া হতে হতো না। এই প্রসঙ্গে আদালতে চলমান মামলার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান যে, বর্তমানে সিবিআই এই পুরো ঘটনার তদন্ত করছে এবং সত্যিটা খুব দ্রুত সামনে আসবে।

অন্যদিকে, এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে নিয়েও মন্তব্য করতে ছাড়েননি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, একজন আন্তর্জাতিক স্তরের নামী ক্রীড়াবিদ হিসেবে স্বপ্না বর্মনের আরও ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। নিজের রাজনৈতিক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি জানান, “এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করেছি।” একই সঙ্গে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় যেকোনো স্তরে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সবশেষে রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। এসএসকেএম বা পিজি হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, হাসপাতালে বহিরাগতদের প্রবেশ রুখতে এবং রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের আলাদা করে চিহ্নিত করতে পৃথক রিস্ট ব্যান্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে শাসকদলকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ব্যবস্থার যেখানে যেখানে ঘুণ ধরেছে, ঠিক সেইসব জায়গায় এবার কড়া ওষুধ দেওয়া হবে।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy