গ্রীষ্মের দাবদাহে তাপমাত্রা যখন ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি ছাড়ায়, তখন হিটস্ট্রোক বা লু লাগা একটি প্রাণঘাতী সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ মানুষের ধারণা, দীর্ঘক্ষণ কড়া রোদে থাকলেই কেবল হিটস্ট্রোক হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে লুকিয়ে থাকা কয়েকটি ছোট ছোট ভুলও শরীরকে এই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি, দেখে নিন একনজরে:
১. তৃষ্ণা না পাওয়া পর্যন্ত জল না খাওয়া: আমাদের বড় ভুল হলো, গলা না শুকানো পর্যন্ত জল না খাওয়া। গরমে শরীর থেকে প্রচুর জল ও ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। পর্যাপ্ত জল না খেলে শরীর ঘাম উৎপাদন বন্ধ করে দেয়, ফলে দেহের তাপমাত্রা হু-হু করে বেড়ে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা তৈরি করে।
২. দুপুরের কড়া রোদে শরীরচর্চা: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে—এই সময় সূর্যের তেজ থাকে সর্বোচ্চ। এই সময়ে ভারী ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম করা মানেই হিটস্ট্রোককে আমন্ত্রণ জানানো। শরীরের স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়াকে অকার্যকর করে তোলে এই অভ্যাস।
৩. ভুল পোশাক নির্বাচন: গ্রীষ্মে সিন্থেটিক বা নাইলনের গাঢ় রঙের পোশাক পরা এড়িয়ে চলাই ভালো। গাঢ় রঙ তাপ শোষণ করে, আর সিন্থেটিক কাপড় ঘাম বাষ্পীভূত হতে বাধা দেয়। ফলে শরীর ভেতর থেকে গরম হয়ে ওঠে। হালকা রঙের সুতির পোশাকই এই গরমে সেরা।
৪. ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল সেবন: কফি, চা কিংবা অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় শরীরে ‘ডাইউরেটিক’ বা মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। এর ফলে শরীর দ্রুত জলশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে, যা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৫. বন্ধ গাড়ির ভেতর সময় কাটানো: রোদে দাঁড় করানো গাড়ি অনেকটা চুল্লির মতো কাজ করে। মাত্র ১০-১৫ মিনিটেই গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের চেয়ে ২০ ডিগ্রি বেশি হয়ে যেতে পারে। এমন পরিবেশে বসে থাকা শিশু বা পোষা প্রাণীদের জন্য তো বটেই, বড়দের জন্যও অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: প্রখর গরমে শরীরকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত জল পান করুন, হালকা রঙের সুতির পোশাক পরুন এবং দিনের বিশেষ সময়ে ভারী পরিশ্রম থেকে বিরত থাকুন। যদি কোনো ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হয়ে যায় বা অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।





