জাতীয় মহিলা কমিশনের (NWC) সঙ্গে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সম্পর্ক বরাবরই তিক্ত। একাধিকবার কমিশনকে ‘বিজেপির রাজনৈতিক শাখা’ বলে কটাক্ষ করেছে ঘাসফুল শিবির। এই আবহে রবিবার নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) উদ্যোগে আয়োজিত এক স্বাস্থ্য শিবিরে কমিশনের সদস্যা ডঃ অর্চনা মজুমদারকে দেখা যাওয়ার পরই সেই পুরোনো বিতর্কের আগুন আবার জ্বলে উঠল।
তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় মহিলা কমিশনের ‘মুখোশ খুলে গেল’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।
শুভেন্দুর সঙ্গে হাসিমুখে ছবি, বিতর্ক তুঙ্গে
রবিবার নন্দীগ্রামের সোনাচুড়া শহীদ মিনারে শুভেন্দু অধিকারী এক স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করেন। সেখানে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যা ডঃ অর্চনা মজুমদারকে দেখা যায়। ক্যামেরায় ধরা পড়ে হাসিমুখে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে অর্চনার ছবি।
এই ছবিটিই এক্স (আগে টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি লেখেন:
“জাতীয় মহিলা কমিশনকে কেন বিজেপির গণসংগঠন বলা হয় বোঝা গেল? জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য হিসেবে ওঁর যে কোনো কথা বা ভূমিকাই বিজেপির দলবাজি। জাতীয় মহিলা কমিশনের মুখোশ এভাবে খুলে দেওয়ার জন্য শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ।”
তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ধর্ষণ বা দাঙ্গা ইস্যুতে NWC-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল। শুভেন্দুর মঞ্চে কমিশনের সদস্যের উপস্থিতিতে সেই অভিযোগ আরও একবার জোরালো করল শাসকদল।
‘কর্মসংস্থান নেই’, মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর
অন্যদিকে, এই দিনই পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যু নিয়ে রাজ্যের শাসকদলকে কাঠগড়ায় তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের কালীচরণপুরের দুই পরিযায়ী শ্রমিক, ২৬ বছর বয়সী প্রণব দিন্দা এবং ৩০ বছর বয়সী চন্দন দাস গুজরাটে কাজে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যান। বিরোধী দলনেতা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
এরপর এক্সে (X) তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শুভেন্দু বলেন:
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে এই রাজ্যে খেলা, মেলা, উৎসব আছে, কিন্তু কর্মসংস্থান নেই। তাই বাধ্য হয়ে রাজ্যের প্রতিটা গ্রামের, প্রতিটা পাড়ার কোনো না কোনো বাড়ির একাধিক ছেলে পেটের দায়ে ভিন রাজ্যে কাজের খোঁজে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ইনি যতো দিন মসনদে থাকবেন, পশ্চিমবঙ্গের যুবক যুবতীদের কপালের দুঃখ তত বাড়তে থাকবে, পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি হবে।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় মহিলা কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং রাজ্যের কর্মসংস্থান ইস্যু—এই দুই বিষয় নিয়েই তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে চাপান-উতোর আরও বাড়বে।