বিজয়-ঝড়ে লণ্ডভণ্ড দ্রাবিড় দুর্গ! শনিবারই কি তামিলনাড়ুর কুর্সিতে ‘থালাপতি’? উত্তেজনা তুঙ্গে

দক্ষিণী রাজনীতির দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে এক নতুন ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (TVK) একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর এখন সবার নজর শনিবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকে। শুক্রবার সন্ধ্যাতেই রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিজয়।

নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। তবে ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১১৮ ছোঁয়া নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে কোমর বেঁধে নেমেছেন টিভিকে প্রধান। সূত্রের খবর, কংগ্রেস (৫), সিপিআই (২), সিপিআই(এম) (২) এবং আইইউএমএল (২)-এর মতো দলগুলো বিজয়কে সমর্থনের আশ্বাস দেওয়ায় তাঁর শিবিরের বর্তমান শক্তি দাঁড়িয়েছে ১২১-এ। ফলে সরকার গঠনের পথে বাধা অনেকটাই কেটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শনিবার সকাল ১১টায় চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। তবে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকর সরকার গঠনের চূড়ান্ত আমন্ত্রণ জানানোর আগে সমর্থনের চিঠিপত্রগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখছেন। এর ফলে চেন্নাই জুড়ে এখন এক অস্থির অথচ টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিজয়ের এই উত্থান তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের দ্বিমেরু রাজনীতিকে (ডিএমকে ও এআইএডিএমকে) বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন এবং ডিএমকে বিরোধী আসনে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, বিজয়ের সমর্থকরা তাঁদের প্রিয় ‘থালাপতি’-কে রাজ্যের সিংহাসনে আসীন দেখতে এখন প্রহর গুনছেন।

বিজয় কি পারবেন সুস্থির প্রশাসন উপহার দিতে? নাকি জোট রাজনীতির প্যাঁচে পড়ে প্রথম থেকেই চাপে থাকবে তাঁর সরকার? উত্তর মিলবে শনিবার সকালেই। ডেইলিয়ান্টের পাঠকদের জন্য আমরা প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিয়ে আসছি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy