বাল্যবিবাহের ‘শাস্তি’ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা! তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

মালদহের ইংরেজবাজারে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এক নাবালিকাকে ফুসলিয়ে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগে সালিশি সভা বসিয়ে নাবালক পাত্রের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রীতিমতো চুক্তিপত্রে সই করিয়ে এই টাকা নিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ। এক মাস আগে ঘটা এই ঘটনা সম্প্রতি জানাজানি হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

জানা গেছে, ইংরেজবাজার থানার যদুপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের এক তৃণমূল সদস্যের নাবালিকা মেয়েকে ৬ মাস আগে একই এলাকার এক নাবালক ছেলে বিয়ে করে। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে অসুস্থতার ভান করে মেয়েটি গত ২৭ জুলাই তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসে। এই ঘটনার জেরে মেয়ের পরিবার ছেলের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং ২৯ জুলাই একটি সালিশি সভা বসে। সেখানে নাবালিকাকে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ নাবালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযোগ, এই টাকার ভাগ বাটোয়ারা করেন এলাকার মাতব্বরেরা এবং স্থানীয় কিছু তৃণমূল নেতা।

নাবালকের ঠাকুমা বলেন, “বিয়ে করার অপরাধে নাতিকে ওই তৃণমূল নেত্রীর পরিবার মারধর করে। সালিশি সভায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এখন আবার বাড়িঘর ভাঙচুরের হুমকি দিচ্ছে।” নাবালকের এক আত্মীয় বলেন, “ওরা দু’জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মেয়ের পরিবার চাইলে পুলিশকে জানাতে পারত। কিন্তু তা না করে সালিশি সভায় জরিমানা করা হয়েছে, এবং তা চুক্তিপত্রে লিখিয়ে নেওয়া হয়।” তিনি আরও জানান যে স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং টাকা ভাগ করে নিয়েছেন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাবালিকার মা তথা তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, “আমরা কোনো টাকা নিইনি। মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছিল, এটা অন্যায় কাজ।” তিনি আরও জানান যে তারা মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তারা মেয়েকে ফেরত দিচ্ছিল না।

অন্যদিকে, সালিশি সভায় উপস্থিত স্থানীয় তৃণমূল নেতা উত্তম মণ্ডল ৫০ হাজার টাকা জরিমানার কথা স্বীকার করলেও, কে বা কারা সেই টাকা ভাগ করে নিয়েছে তা বলতে পারেননি। জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র আশিস কুণ্ডু বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। পুলিশ তদন্ত করছে।” পুলিশ খবর পেয়ে দুই নাবালক-নাবালিকাকে উদ্ধার করে সরকারি হোমে পাঠিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy