বালি টোলপ্লাজার এক ‘ভুল’ ধরিয়ে দিল খুনিদের? শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুনে বিহার কানেকশন

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে এবার অ্যাকশন মুডে সিট (SIT)। তদন্তের জল গড়ালো ভিনরাজ্যে। চন্দ্রনাথ খুনের রহস্যভেদে এবার বিহারের বক্সার এলাকায় হানা দিল বাংলার তদন্তকারী দল। সেখান থেকেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছে কুখ্যাত অপরাধী বিশাল শ্রীবাস্তব। ধৃত বিশালকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিহারে হানা ও বিশালের গ্রেফতারি তদন্ত যত এগোচ্ছে, চন্দ্রনাথ খুনে পেশাদার খুনিদের যোগসূত্র তত স্পষ্ট হচ্ছে। সিট সূত্রে খবর, পোন্ডেয়পট্টি এলাকার বাসিন্দা বিশাল শ্রীবাস্তবের বিরুদ্ধে আগে থেকেই হত্যা এবং আর্মস অ্যাক্টের মতো একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের অনুমান, ৬ মের সেই কালরাত্রিতে চন্দ্রনাথের ওপর গুলিবর্ষণকারীদের মধ্যে অন্যতম এই বিশাল।

একটি UPI ট্রানজাকশন এবং তদন্তে নয়া মোড় এই হাই-প্রোফাইল খুনের কিনারা করতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন গোয়েন্দারা। সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অপারেশনের আগে একটি সাদা রঙের নিসান মাইক্রা গাড়ি বালি টোলপ্লাজা পার করেছিল। চমকপ্রদ বিষয় হলো, ওই টোলপ্লাজায় নগদ টাকার বদলে UPI মারফত পেমেন্ট করা হয়েছিল। ওই একটি ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরেই পুলিশ পৌঁছে যায় অ্যাকাউন্টের হদিশ পর্যন্ত। তদন্তকারীদের সন্দেহ, যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা মেটানো হয়েছিল, তার মালিকই এই অপারেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র।

রাস্তা আটকে বচসা, নাকি পরিকল্পনা মাফিক খুন? প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির পথ আটকে দাঁড়ায় ওই নিসান মাইক্রা। রাস্তা ছাড়া নিয়ে দুই গাড়ির চালক ও আরোহীদের মধ্যে প্রথমে তুমুল বচসা বাধে। গোয়েন্দাদের অনুমান, বচসা ছিল কেবল একটা অজুহাত মাত্র। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই গাড়ি থেকে নেমে নির্বিচারে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা।

সেই অভিশপ্ত রাত গত ৬ মে রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ নিজের বাড়ি ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। দুষ্কৃতীদের গুলিতে বিদ্ধ হন তিনি এবং তাঁর চালক বুদ্ধদেব বেরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, চন্দ্রনাথের বুকে দুটি এবং পেটে একটি গুলি লেগেছিল। হৃদপিণ্ড ফুটো হয়ে যাওয়ায় ‘মাল্টি অর্গান ফেলিওর’-এর জেরে তাঁর মৃত্যু হয়।

শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গীকে কেন খুন হতে হলো? এর নেপথ্যে কি কেবল রাস্তা নিয়ে বচসা নাকি গভীর কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? ধৃত বিশাল শ্রীবাস্তবকে জেরা করলেই সেই ‘মাস্টারমাইন্ড’-এর নাম সামনে আসবে বলে আশাবাদী লালবাজারের গোয়েন্দারা। ও দিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই আক্ষেপ করে জানিয়েছিলেন, ভবানীপুরে তাঁর জয়ের আক্রোশ থেকেই হয়তো তাঁর ঘনিষ্ঠদের টার্গেট করা হচ্ছে। এখন দেখার, তদন্তের রেশ আর কোথায় পৌঁছায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy