গাজরৌলা এলাকার খুমাওয়ালি গ্রামের আকাশ বাতাস এখন শোকে ম্লান। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় ১৯ বছর বয়সি পুষ্পেন্দ্রী দেবীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর প্রদেশের আমরোহায়। অভিযোগ, বিয়ের সময় দেওয়া যৌতুকে সন্তুষ্ট না হয়ে অতিরিক্ত ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দাবি পূরণ না হওয়ায় তরুণীকে পিটিয়ে হত্যার পর তাঁর দেহ ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ওমপালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন পুষ্পেন্দ্রী। বিয়ের সময় মেয়ের পরিবারের সাধ্যমতো গয়না ও নগদ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ওমপাল, শ্বশুর রাজেন্দ্র ও শাশুড়ি ইন্দ্রাবতী যৌতুকের দাবিতে পুষ্পেন্দ্রীর ওপর অকথ্য অত্যাচার শুরু করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুষ্পেন্দ্রী তাঁর বাবা বলবীর সিংকে ফোন করে কান্নায় ভেঙে পড়ে আকুতি জানান যে, তাঁকে যেন দ্রুত সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়। বলবীর জানিয়েছেন, ফোন করার সময় তাঁর মেয়ে বারবার বলছিলেন, “ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, তুমি আমাকে আজই নিয়ে যাও।” বাবা আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি পৌঁছাচ্ছেন, কিন্তু তার আগেই নেমে আসে কালরাত্রি।
কিছুক্ষণ পরেই বাপের বাড়িতে খবর আসে যে, পুষ্পেন্দ্রী আর নেই। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতের পরিবার দেখেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ির দরজা বন্ধ করে চম্পট দিয়েছে। এরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বাপের বাড়ির লোকজন প্রথমে পুলিশকে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ সরাতে বাধা দেন এবং অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে সরব হন। মৃতা তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত খুন এবং বিষয়টিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন দেহ ঝুলিয়ে দিয়েছিল।
এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। সার্কেল অফিসার পঙ্কজ কুমার ত্যাগী জানান, মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী ওমপাল, শ্বশুর, শাশুড়ি-সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুক নির্যাতন ও মৃত্যু সংক্রান্ত ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের গলায় ফাঁস লাগানোর চিহ্ন রয়েছে, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব নয়। বর্তমানে অভিযুক্তরা সকলেই পলাতক। তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশের একটি বিশেষ দল। এই ঘটনাটি খুন না আত্মহত্যা, তা খতিয়ে দেখতে প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। বিয়ের পিঁড়িতে বসা মেয়েটির এমন পরিণতিতে স্থানীয় মানুষ স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ। যৌতুক প্রথার কালো ছায়া যে আজও সমাজের গভীরে কতটা সক্রিয়, এই ঘটনা তারই এক ভয়াবহ নজির।





