২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে কৃষকদের শুধু ‘অন্নদাতা’ নয়, বরং ‘কৃষি উদ্যোক্তা’ হিসেবে গড়ে তোলার ব্লুপ্রিন্ট সাজিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। যদিও সরাসরি পিএম কিষাণ নিধির টাকা বাড়ানোর ঘোষণা আসেনি, তবে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে এবার সরকার ভরসা রাখছে প্রযুক্তি, মাছ চাষ এবং নারকেল চাষের মতো বিকল্প পথে। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, অন্তত ৩ কোটি মানুষ এবং ১ কোটি কৃষক সরাসরি এই নতুন প্রকল্পগুলো থেকে লাভবান হবেন।
কৃষিতে এআই বিপ্লব ও ‘ভারত বিস্তার’: চাষিদের সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ দিতে সরকার চালু করছে ‘ভারত বিস্তার’ (BHARAT VISTAAR) নামক একটি বহুভাষিক এআই টুল। এটি এগ্রিস্ট্যাক (AgriStack) পোর্টাল এবং আইসিএআর (ICAR)-এর গবেষণা ডেটা ব্যবহার করে কৃষকদের বীজ বোনা থেকে শুরু করে মাটির স্বাস্থ্য ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেবে। এর ফলে চাষের ঝুঁকি কমবে এবং ফলন বাড়বে।
নীল বিপ্লব ও ৫’শ জলাশয়: মৎস্য চাষকে গ্রামীণ আয়ের প্রধান উৎস করতে ৫০০টি বড় জলাশয় ও ‘অমৃত সরোবর’-এর সমন্বিত উন্নয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় স্টার্টআপ এবং মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোকে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা হবে। এছাড়া পশু পালনে উদ্যোক্তা তৈরিতে ক্রেডিট-লিঙ্কড সাবসিডি স্কিম আনার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী।
নারকেল ও কাজু চাষে বিশ্বমানের ব্র্যান্ডিং: কেরালা ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলোর প্রায় ১ কোটি নারকেল চাষি এবং ৩ কোটি মানুষের সুবিধার জন্য ‘কোকোনাট প্রোমোশন স্কিম’ চালু করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতীয় কাজু ও কোকোকে আন্তর্জাতিক প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, লাঙল আর বলদের চিরাচরিত চাষবাসকে সরিয়ে ডিজিটাল এবং প্রযুক্তি নির্ভর কৃষিকাজের দিকেই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।