২০২৬-২৭ কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীর জন্য উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। রবিবারের বাজেট অধিবেশনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, আগামী দিনে কেবল ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক শহর হিসেবে নয়, বারাণসী আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে উত্তর ভারতের অন্যতম প্রধান কানেক্টিভিটি এবং লজিস্টিক হাব হিসেবে। বারাণসীর এই ভোলবদলে কেন্দ্রীয় সরকার একগুচ্ছ মেগা প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছে।
হাই-স্পিড রেল করিডোর ও বুলেটের গতি: এবারের বাজেটে বারাণসীর জন্য সবথেকে বড় চমক হলো হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্ক। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে মোট সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডোর তৈরি হবে, যার মধ্যে দু’টি সরাসরি বারাণসীর বুক চিরে যাবে। প্রথমটি হলো বহুল প্রতীক্ষিত দিল্লি-বারাণসী হাই-স্পিড করিডোর, যা রাজধানী ও পূর্ব ভারতের দূরত্ব কয়েক ঘণ্টায় কমিয়ে আনবে। দ্বিতীয়টি হলো বারাণসী-শিলিগুড়ি করিডোর। এই প্রকল্পের ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে, যা আদতে পর্যটন ও ব্যবসায়িক লেনদেনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
জলপথ ও শিপ রিপেয়ার হাব: শুধু স্থলপথ নয়, জলপথেও বারাণসীকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বারাণসীতে একটি আধুনিক ‘শিপ রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ইকোসিস্টেম’ বা জাহাজ মেরামত কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এর ফলে গঙ্গা নদীর মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে। বারাণসীর পাশাপাশি পাটনাতেও এই ধরণের হাব তৈরির কথা বলা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে উত্তর ভারতের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর ও শিল্পায়ন: শিল্পের প্রসারের লক্ষ্যে ডঙ্কুনি (পশ্চিমবঙ্গ) থেকে সুরাট (গুজরাট) পর্যন্ত নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর নির্মাণের ঘোষণা করা হয়েছে। এই করিডোরটি খনিজ সমৃদ্ধ এলাকা ও শিল্পাঞ্চলকে সরাসরি বন্দরের সাথে যুক্ত করবে। এর ফলে বারাণসী সংলগ্ন অঞ্চলের শিল্পপণ্য দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাবে। মোটের ওপর, রেল, জলপথ এবং পণ্য করিডোরের এই সমন্বয় বারাণসীকে এক আধুনিক ভারতের উন্নয়ন মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। মোদী সরকারের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কাশীর ভাগ্য ও ছবি দুই-ই বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।