২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে ভারতীয় রেলের ভোল বদলে দিতে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। দেশের প্রধান অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে জুড়তে সাতটি নতুন ‘উচ্চ-গতির রেল করিডোর’ বা বুলেট ট্রেন স্টাইল করিডোর তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর মতে, এই করিডোরগুলো কেবল ট্রেন চলাচলের পথ নয়, বরং ভারতের উন্নয়নের ‘গ্রোথ কানেক্টর’ হিসেবে কাজ করবে। তবে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের ঘোষণা যতটা জাঁকজমকপূর্ণ, তার বাস্তবায়ন নিয়ে ততটাই সংশয় প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘটা করে আহমেদাবাদ-মুম্বাই বুলেট ট্রেন প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তৎকালীন জাপানি প্রধানমন্ত্রী। আজ ৯ বছর পার হয়ে গেলেও সেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০২৯ সালের আগে প্রথম বুলেট ট্রেন চলার কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ একটি করিডোর সম্পূর্ণ করতেই এক দশকের বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আরও ৭টি নতুন করিডোরের কাজ কবে শেষ হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও প্রশ্ন দুই-ই দেখা দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় পরিবেশগত স্থায়িত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই উচ্চ-গতির রেল ব্যবস্থা কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে এবং বিমানবন্দর ও রাস্তার ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমাবে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিশাল প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাজেট বরাদ্দ বা অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে আজ সংসদে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। করিডোরগুলো যে রুট দিয়ে যাবে, তার পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি করা হলেও, বাস্তবের জমিতে কাজের গতি কতটুকু হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বিরোধীদের মতে, পুরনো প্রকল্পের গতি না বাড়িয়ে নতুন ঘোষণার মোড়ক দেওয়া আদতে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার নামান্তর। এখন দেখার, এই সাত করিডোর ভারতের রেল মানচিত্রকে কতটা বদলে দিতে পারে।