বাঙালি পেল প্রথম বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার! ২৪ বলে ৩৪ রানের ‘রিচা-ঝড়’, যা বললেন বঙ্গকন্যা

বাঙালির ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন স্বর্ণাক্ষর! সৌরভ গাঙ্গুলি পারেননি, কিংবদন্তি ঝুলন গোস্বামীও কাপ হাতে নিতে পারেননি। কিন্তু সেই অসাধ্য সাধন করলেন শিলিগুড়ির কন্যা, ২১ বছর বয়সী তরুণী রিচা ঘোষ!

রবিবার মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ভারতকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে হরমনপ্রীত ব্রিগেড। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি এই বঙ্গকন্যা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে দুরমুশ করে ভারতের এই প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের সাক্ষী থাকল গোটা বিশ্ব।

ফাইনালে ২৪ বলে ৩৪ রানের ‘রিচা-ঝড়’

ফাইনালের কঠিনতম মুহূর্তে আবারও নিজের জাত চেনালেন রিচা। দলের যখন দ্রুত রানের প্রয়োজন, ঠিক সেই সময় ব্যাট হাতে নেমে মাত্র ২৪ বলে ৩৪ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেললেন তিনি। তাঁর এই বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৩টি চার এবং ২টি বিশাল ছক্কা। এই ইনিংসই ভারতকে বড় স্কোর গড়তে সাহায্য করে।

ম্যাচ শেষে আনন্দ ও আবেগে আপ্লুত রিচা তাঁর সাফল্যের রহস্য ফাঁস করলেন। রিচা বলেন, ‘আমার উপর সবার ভরসা ছিল। সবাই বলছিল তুই-ই মারতে পারবি। এটাই আমায় মনোবল জুগিয়েছেন।’

‘সব উজাড় করে দাও’ – এই ছিল রিচার মন্ত্র

জীবন বাজি রাখা স্বপ্নপূরণের এই জয় নিয়ে রিচা বলেন, ‘সকলে একটাই কথা মাথায় রেখেছিলাম, এটা প্রতিযোগিতার শেষ দিন। নিজেদের মধ্যে যা আছে পুরোটা উজাড় করে দিতে হবে। শরীরের শেষ শক্তি পর্যন্ত সমর্পণ করতে হবে। একে অপরের জন্য খেলব আমরা। সব উজাড় করে দাও, এটাই ছিল আমাদের আসল মন্ত্র।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত রিচা বলেন, ‘স্বপ্ন সত্যি হল। আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। কীরকম লাগছে তা বলতেই পারব না। এই অনুভূতি বাকি সব কিছুর চেয়ে আলাদা।’

২১ বছর বয়সেই ‘ডেথ ওভার কুইন’

কেবলমাত্র ফাইনাল নয়, গোটা টুর্নামেন্টেই ডেথ ওভারগুলোতে (৪১-৫০ ওভার) রিচা ছিলেন ভয়ঙ্কর। এই বিশ্বকাপে তিনি ডেথ ওভারগুলোতে মোট ১৮৫ রান করেছেন, যা ১৬৫.১৭ স্ট্রাইক রেটে। এটি ছিল টুর্নামেন্টের সেরা স্ট্রাইক রেট!

এই প্রথম বিশ্বকাপেই ৮ ইনিংসে ২৩৫ রান করে গড় দাঁড় করালেন ৩৯.১৬-এ। মাত্র ২১ বছর বয়সেই রিচা ঘোষ এখন ভারতীয় মহিলাদের ক্রিকেটের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ‘ফিনিশার’ হিসেবে পরিচিত।

শিলিগুড়িতে রাতভর উৎসব

শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কের মেয়ে রিচার হাত ধরেই বাঙালি প্রথমবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেল। তাই রবিবারের রাতটা ছিল শিলিগুড়িতে এক অন্যরকম উৎসবের রাত। পুরসভার পক্ষ থেকে ঘরের মেয়ের বিশ্বজয় দেখার জন্য জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থা করা হয়।

এলাকাবাসী রাত জেগে সেখানেই রিচার হাতে কাপ উঠতে দেখলেন। কারও গায়ে ছিল ভারতের জার্সি, কারও হাতে জাতীয় পতাকা। গর্বিত অভিভাবক ও এলাকাবাসী তাঁদের মেয়ের জন্য উৎসবে মাতেন। রাতভর জয়ধ্বনি চলতে থাকে রাস্তা জুড়ে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy