‘বাংলায় আমার নাচ বন্ধ করেছে দিদি!’ ময়নাগুড়িতে দাঁড়িয়ে মমতাকে নজিরবিহীন আক্রমণ হেমা মালিনীর।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এবার গ্ল্যামার আর রাজনীতির কড়া মিশেল। উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়িতে বিজেপির সমর্থনে জনসভা করতে এসে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন মথুরার বিজেপি সাংসদ তথা বলিউড অভিনেত্রী হেমা মালিনী। তাঁর দাবি, বাংলায় শিল্পীদের স্বাধীনতা নেই এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর নিজস্ব নৃত্যানুষ্ঠান পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিজম’ ও নৃত্যানুষ্ঠানে বাধা

জনসভার মঞ্চ থেকে হেমা মালিনী অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে সুস্থ সংস্কৃতির পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি একাধারে একজন শিল্পী এবং রাজনীতিবিদ। কিন্তু বাংলায় আমার নৃত্যানুষ্ঠান করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। হল বুকিং থেকে শুরু করে শেষ মুহূর্তে পারমিশন বাতিল—নানাভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। এটা কি সাংস্কৃতিক ফ্যাসিজম নয়?” তিনি আরও দাবি করেন, আগে বহুবার তিনি বাংলায় অনুষ্ঠান করেছেন, কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে শিল্পীদের নিরাপত্তার অভাব প্রকট।

নারী নিরাপত্তা নিয়ে তোপ

শুধুমাত্র সংস্কৃতি নয়, এদিন মহিলাদের সুরক্ষার ইস্যুতেও কংগ্রেস ও তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ করেন তিনি। হেমা মালিনীর কথায়:

  • মহিলাদের জন্য বিপজ্জনক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে বাংলায় মহিলারা সুরক্ষিত নন। একের পর এক নারী নিগ্রহের ঘটনা তার প্রমাণ।

  • ইন্ডি জোটকে আক্রমণ: কংগ্রেস ও তৃণমূলের জোট মহিলাদের জন্য আরও বড় বিপদ ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

  • বিজেপিই ভরসা: দেশের একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই নারীর ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন বলে দাবি তাঁর।

ময়নাগুড়িতে উপচে পড়া ভিড়

‘ড্রিমগার্ল’-কে একঝলক দেখতে ময়নাগুড়িতে এদিন মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। হাতে দলীয় পতাকা আর মুখে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি নিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা হেমা মালিনীকে স্বাগত জানান। তাঁর এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা ময়নাগুড়ির জনতাকে আবেগপ্রবণ করে তোলে, যা তৃণমূলের বিরুদ্ধে বড় অস্ত্র হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এক নজরে অভিযোগ:

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy