জুলাই বিপ্লবের পর এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭:৩০ থেকে ২৯৯টি আসনে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। শেখ হাসিনা বিহীন এই নির্বাচনে লড়াই মূলত দ্বিমুখী— একদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি, অন্যদিকে ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে গড়া জামায়াত-ই ইসলামী জোট। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চললেও ফলাফল নিয়ে সাধারণ মানুষের স্নায়ুর চাপ এখন তুঙ্গে।
জনমত সমীক্ষায় কে এগিয়ে?
ভোটের লড়াই শুরুর আগেই বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। মূলত দুটি বড় সংস্থা ভিন্নধর্মী পূর্বাভাস দিয়েছে:
-
ইএএসডি (EASD) জরিপ: সংবাদ সংস্থা ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ প্রকাশিত এই সমীক্ষায় প্রায় ৪১,৫০০ ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, তারেক রহমানের বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে। এই সমীক্ষার ফল:
-
বিএনপি: ২০৮টি আসন (ভোটের হার ৬৬.৩%)
-
জামায়াত জোট: ৪৬টি আসন (ভোটের হার ১১.৯%)
-
জাতীয় পার্টি: ৩টি আসন
-
নির্দল ও অন্যান্য: ২১টি আসন
-
-
আইআইএলডি (IILD) জরিপ: এই সমীক্ষাটি করা হয়েছে ৬৩,১১৫ জন ভোটারের ওপর। এখানে লড়াই অত্যন্ত সমানে-সমান বা ‘নেক-টু-নেক’ হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে:
-
জামায়াত জোট: ১০৫টি আসনে নিশ্চিত জয়।
-
বিএনপি: ১০১টি আসনে নিশ্চিত জয়।
-
ভোটের হারের দিক থেকে বিএনপি (৪৪.১%) ও জামায়াত জোট (৪৩.৯%) একদমই কাছাকাছি।
-
কেন এই লড়াই এত কঠিন?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতারা। তাদের দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এবং আরও ১১টি দলের সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত নিজেদের ‘ক্লিন ইমেজ’ তুলে ধরার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে আসা তারেক রহমানের জন্য এটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
ভোটের সর্বশেষ পরিস্থিতি
সংবাদ সংস্থা ‘প্রথম আলো’র রিপোর্ট অনুযায়ী, সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ ভোট দিচ্ছেন। ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্র এবং জেলা পর্যায়ে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। বিকাল ৪:৩০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শেষ হবে। নির্বাচনকে ঘিরে মোতায়েন রয়েছে প্রায় ৯ লক্ষ নিরাপত্তা কর্মী।
ফলাফল কোন দিকে যায়? বিএনপির অভিজ্ঞ রাজনীতি জয়ী হবে, নাকি জুলাই বিপ্লবেরুণদের হাত ধরে জামায়াত জোট বাজিমাত করবে— তার উত্তর মিলবে দ্রুতই।