দ্বিতীয় দফা ভোটের ঠিক আগে নিজের খাসতালুক ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এলাকার বস্তিগুলোতে ভোটারদের প্রভাবিত করতে ‘গদ্দারের লোকরা’ মাথা পিছু ৫ হাজার টাকা করে বিলি করার ছক কষেছে। প্রতিপক্ষ শিবিরের এই ‘মানি পাওয়ার’ রুখতে এদিন নিজের কেন্দ্র থেকেই কড়া হুঙ্কার ছাড়লেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
ভবানীপুরের কর্মীসভায় বক্তব্য রাখার সময় মমতা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন:
“আমি খবর পেয়েছি, ভোটের আগের রাতে ওরা বস্তিতে বস্তিতে লোক পাঠাবে। গদ্দারের লোকরা ৫ হাজার টাকা করে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। টাকা দিয়ে আপনাদের ভোট কিনতে চাইছে ওরা। মনে রাখবেন, ভবানীপুরের মানুষ বিক্রি হয় না।”
ভোটারদের উদ্দেশে নতুন ‘দাওয়াই’
বিগত নির্বাচনের মতো এবারও মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের এক বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি ওরা টাকা দিতে আসে, তবে টাকাটা খেয়ে নিন। ওটা আপনাদেরই ট্যাক্সের টাকা। কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় মাথায় রাখবেন কে আপনাদের পাশে থাকে। ভোটটা জোড়া ফুলেই দেবেন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রতিপক্ষের আর্থিক প্রলোভন ভোঁতা করতেই এই কৌশলী মন্তব্য করেছেন মমতা।
কাকে নিশানা করলেন ‘গদ্দার’ বলে?
বক্তৃতায় কোনো নির্দিষ্ট নাম না নিলেও, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে মমতার নিশানায় ছিলেন বিরোধী দলনেতা বা অন্য কোনো হেভিওয়েট দলত্যাগী নেতা। গত কয়েক বছরে যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন, তাঁদেরকেই সচরাচর ‘গদ্দার’ বলে সম্বোধন করেন তৃণমূল নেত্রী। ভবানীপুরে বিরোধী প্রচারের ঝাঁঝ বাড়তেই তিনি যে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন, এদিনের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট।
কমিশনের কাছে নালিশের ইঙ্গিত
টাকা বিলির এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারে বলেও জানা গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি পুলিশ এবং প্রশাসনকে সতর্ক করছি। বাইরের লোক এসে ভবানীপুরের শান্তি বিঘ্নিত করলে বরদাস্ত করা হবে না।”
নির্বাচনের আগে ‘ভোটের জন্য নোট’ বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে এমন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার উল্লেখ দ্বিতীয় দফার লড়াইকে আরও তিক্ত করে তুলল বলেই মনে করা হচ্ছে।





