“বন্ধ হচ্ছে রাশিয়ার সস্তা তেলের রাস্তা!”-ট্রাম্পের কোপে ভারতসহ একাধিক দেশ, এবার বিকল্প কী?

আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড়সড় কম্পন! দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইরান ও রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই দুই দেশ থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে যে বিশেষ ছাড় বা ‘জেনারেল লাইসেন্স’ দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হচ্ছে না।

কী জানালেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি? একটি সাংবাদিক বৈঠকে স্কট বেসেন্ট সাফ জানান, ১১ মার্চের আগেই ওই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা দেশগুলোকে স্পষ্ট বলে দিয়েছি, আপনারা যদি ইরানের তেল কেনেন বা আপনাদের ব্যাঙ্কে ইরানের টাকা থাকে, তবে আমরা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রস্তুত।” আমেরিকা আর চায় না এই তেলের ব্যবসার মাধ্যমে মস্কো বা তেহরানের কোষাগারে বাড়তি অর্থ পৌঁছাক।

ভারতের ওপর এর প্রভাব কী? রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত রাশিয়ার থেকে ডিসকাউন্টে বা সস্তায় বিপুল পরিমাণ তেল কিনে আসছিল। আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত বড়সড় সংকটের মুখে পড়তে পারে:

  • সস্তা তেলের অভাব: এতকাল যে বিশেষ ছাড়ের সুবিধা ভারত পাচ্ছিল, তা বন্ধ হলে বিশ্ববাজারের চড়া দামে তেল কিনতে হবে।

  • পেট্রোল-ডিজেলের দাম: ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

  • ব্যাঙ্কিং সমস্যা: ইরানের সঙ্গে লেনদেন করলে ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলোকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।

বিকল্প কী? দিল্লির পরবর্তী চাল কী হবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান বা রাশিয়ার বিকল্প হিসেবে ভারতের হাতে এখন ভেনেজুয়েলার পথ খোলা আছে। তবে সমস্যা একটাই— ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল পরিশোধন (Refining) করার খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। ফলে ঘুরপথে সেই আমজনতার পকেটেই টান পড়ার আশঙ্কা থাকছে।

কেন এই কঠোর অবস্থান ট্রাম্পের? মার্কিন রাজনীতির অন্দরে অভিযোগ উঠেছিল, পূর্ববর্তী শিথিলতার কারণে রাশিয়া ও ইরান আর্থিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফিরেই সেই ‘আর্থিক অক্সিজেন’ বন্ধ করতে আদাজল খেয়ে নেমেছে। এই চাপের মুখে ভারত আমেরিকার সঙ্গে কোনো বিশেষ সমঝোতায় আসতে পারে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাখছে সাউথ ব্লক।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy