সাধারণ মানুষের পকেটে স্বস্তি দিতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। দেশের জাতীয় ও রাজ্য সড়কগুলিতে চলা ‘অনুমোদনহীন’ বা বেআইনি টোল প্লাজাগুলি অবিলম্বে বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেসব টোল প্লাজার কাছে বৈধ সরকারি কাগজপত্র বা নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কাজ করার লাইসেন্স নেই, তারা আর এক পয়সাও সংগ্রহ করতে পারবে না।
অভিযোগের ভিত্তিতে কড়া অবস্থান: দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ আসছিল যে, টোল প্লাজাগুলির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও অনেক সংস্থা অবৈধভাবে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা আদায় করছে। কোথাও আবার টোল আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বা ছাড়পত্র নেই। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সড়ক পরিবহন মন্ত্রক এই বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্লাজা নিয়ম মানছে না, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে তালা ঝোলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টাকা দিলেই হতে পারে আইনি পদক্ষেপ: নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদনহীন কোনও প্লাজায় সাধারণ মানুষ যেন টাকা না দেন। জোর করে টাকা চাওয়ার চেষ্টা করলে সেই সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, লোকাল প্রভাবশালী বা ছোট ঠিকাদারি সংস্থাগুলি প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এমন বেআইনি টোল বুথ চালিয়ে যাচ্ছিল। এবার সেই ‘তোলাবাজি’ সংস্কৃতিতে দাঁড়ি টানতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্র।
স্বচ্ছতা ফেরাতে নয়া প্রযুক্তি: শুধুমাত্র টোল বন্ধ করাই নয়, বৈধ টোল প্লাজাগুলিতেও স্বচ্ছতা ফেরাতে সরকার আরও বেশি করে ডিজিটাল লেনদেন এবং উন্নত প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যানজট কমবে, তেমনই সাধারণ মানুষ হয়রানির হাত থেকে মুক্তি পাবেন।
সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সড়ক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তন আসবে। এর ফলে পরিবহণ খরচ কমবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের ওপরেও। আপাতত দেশের প্রতিটি জেলাশাসককে নিজ নিজ এলাকার টোল প্লাজাগুলি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





