আপনি কি বাইক বা স্কুটি নিয়ে যাতায়াত করেন? হেলমেট পরাকে কি মনে করেন নিছক দায়সারা কাজ? তাহলে সাবধান! আপনার এই অবহেলাই এবার আপনাকে বড় বিপদে ফেলতে পারে। রাজ্যে পথ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বাইক চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবার সরাসরি পুলিশের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে এবার আর কোনো আপস নয়, বরং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় ঠিক কী বলা হয়েছে? রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার এবং কমিশনারেটগুলোতে পাঠানো নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে:
কড়া ধরপাকড়: শুধুমাত্র মূল রাস্তা বা হাইওয়ে নয়, এবার গলি বা পাড়ার ভেতরেও যদি কেউ হেলমেট ছাড়া বাইক চালান, তবে তাঁকে তৎক্ষণাৎ পাকড়াও করবে পুলিশ।
লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত হতে পারে: বারংবার একই ভুল করলে বা হেলমেট ছাড়া ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।
পিছনের আরোহীর জন্যও নিয়ম: শুধুমাত্র চালক নন, বাইকের পিছনের আরোহীর (Pillion Rider) মাথায় হেলমেট না থাকলেও মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে।
সিসিটিভি নজরদারি: ট্রাফিক সিগন্যালে থাকা ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে। হেলমেট না থাকলে অটোমেটিক ই-চালান পৌঁছে যাবে আপনার বাড়িতে।
কেন এই কড়াকড়ি? তথ্য বলছে, রাজ্যে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর একটি বড় অংশ ঘটে হেলমেট না থাকার কারণে। বিশেষ করে দ্রুত গতিতে বাইক চালানো এবং মাথায় সুরক্ষা কবচ না থাকায় প্রাণ হারাচ্ছেন বহু যুবক। এই অকাল মৃত্যু রুখতেই রাজ্য সরকার এবার পুলিশের হাত শক্ত করল। প্রশাসনিক মহলের স্পষ্ট বার্তা— “রাজস্ব বাড়ানো নয়, মানুষের জীবন বাঁচানোই এই নতুন নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য।”
পুলিশের নয়া রণকৌশল: ইতিমধ্যেই কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় নাকা তল্লাশিতে গতি আনা হয়েছে। বাইক চালকদের একাংশের দাবি, জরিমানার পরিমাণও আগের চেয়ে বাড়ানো হতে পারে। তাই পকেট বাঁচাতে এবং সর্বোপরি প্রাণ বাঁচাতে আজ থেকেই হেলমেট পরার অভ্যাসকে বাধ্যতামূলক করুন। সরকারের এই কড়াকড়িতে রাজ্যে পথ দুর্ঘটনার হার কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।
মনে রাখবেন, আপনার বাড়িতে কেউ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। তাই নিরাপদে থাকুন, হেলমেট পরুন।





